শনিবার, ২ মে ২০২৬

ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে কড়াকড়ির ইঙ্গিত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ও মিছিলে ব্যবহৃত কিছু স্লোগান নিষিদ্ধ করা হতে পারে এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এসব সমাবেশ পুরোপুরি বন্ধও করে দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।

শনিবার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্টারমার বলেন, তিনি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের পক্ষে থাকলেও “গ্লোবালাইজ দ্য ইনতিফাদা” ধরনের স্লোগান গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের স্লোগান ব্যবহারের ক্ষেত্রে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লন্ডনে ফিলিস্তিনপন্থীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে।

স্টারমার জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে পুলিশের সঙ্গে আলোচনা চলছে এবং প্রয়োজন হলে কিছু সমাবেশ নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হতে পারে। এর আগে তিনি একই স্লোগানকে “চরম বর্ণবাদী” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন, এটি ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার স্যার মার্ক রাউলি জানিয়েছেন, এই স্লোগান ব্যবহার করলে গ্রেপ্তারের ঝুঁকি থাকতে পারে। যদিও সমর্থকদের দাবি, এই স্লোগানটি মূলত ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনকে বৈশ্বিক পর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

সম্প্রতি লন্ডনের গোল্ডার্স গ্রিন এলাকায় ছুরিকাঘাতের একটি ঘটনায় দুই ব্যক্তি আহত হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে চাপের মুখে পড়েছেন স্টারমার। ওই ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘটনার পর এলাকাটি পরিদর্শনে গেলে কিছু স্থানীয় বাসিন্দা স্টারমারের বিরুদ্ধে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না করার অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ জানান।

এদিকে, যুক্তরাজ্যে সন্ত্রাসবিরোধী সতর্কতা স্তর “সিভিয়ার” পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সতর্কতা। একই সময়ে ইসরায়েল-গাজা যুদ্ধকে ঘিরে দেশটিতে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলনের ওপর কঠোর অবস্থান নেওয়ায় ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের সমালোচনাও বাড়ছে।

গত মাসে লন্ডনে একটি বিক্ষোভে ৫০০’র বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়, যেখানে ফিলিস্তিনপন্থী সংগঠন ‘প্যালেস্টাইন অ্যাকশন’-এর ওপর নিষেধাজ্ঞার প্রতিবাদ জানানো হচ্ছিল। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।

বিশ্লেষকদের মতে, নিরাপত্তা উদ্বেগ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা যুক্তরাজ্যের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন