শুক্রবার, ১ মে ২০২৬

জ্বালানির দামে ধাক্কা, যুদ্ধের চাপ ট্রাম্পের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে, যার সরাসরি প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে প্রতি গ্যালন (প্রায় ৩.৮ লিটার) পেট্রোলের গড় দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪.৩০ ডলারে, যা যুদ্ধ শুরুর আগে ৩ ডলারেরও নিচে ছিল।

American Automobile Association (এএএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহেই জ্বালানির দাম ২৭ সেন্ট বেড়েছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি করায় এ মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে।

এএএ জানিয়েছে, এক বছর আগের তুলনায় বর্তমানে গ্যাসোলিনের দাম গড়ে ১.১২ ডলার বেশি এবং চার বছরের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ পর্যায়। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের দাম ৬ ডলারেরও বেশি ছাড়িয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রে মুদ্রাস্ফীতি ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও বাড়িয়ে তুলছে। এর প্রভাব রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়ছে বলে জনমত জরিপে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, সংঘাত শেষ হলেই জ্বালানির দাম দ্রুত কমে আসবে। তিনি বলেন, “যুদ্ধ শেষ হলে দাম দ্রুত নেমে আসবে।” একইসঙ্গে তিনি ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না দেওয়ার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, সংঘাত থেমে গেলেও তেলের দাম তাৎক্ষণিকভাবে কমে যায় না। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি হলেও যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়তেই থেকেছে।

অন্যদিকে ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধকে “সামরিক চাপের ধারাবাহিকতা” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দীর্ঘদিন সহ্য করা সম্ভব নয়।

উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। এখানে চলাচল ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে গিয়ে তার প্রভাব পড়ছে বিশ্ব অর্থনীতির ওপর, যার প্রভাব ভোক্তা পর্যায়েও অনুভূত হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন