শনিবার, ২ মে ২০২৬

বন্ধ কারখানা চালু করে কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর

বিগত স্বৈরাচারী সরকারের আমলে ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশের শিল্প খাত পুনর্গঠনে বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো পর্যায়ক্রমে পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

মহান মে দিবস উপলক্ষে শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত শ্রমিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান। জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আয়োজিত এ সমাবেশে তারেক রহমান বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পরই তিনি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর বিষয়ে নির্দেশনা দিয়েছেন। এ সপ্তাহেই একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে দ্রুততার সঙ্গে এসব কারখানা চালু করে বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

এক যুগের বেশি সময় ধরে শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের অবসান ঘটে। আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, লুটপাটের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতি ধ্বংস করা হয়েছে এবং ধীরে ধীরে শিল্পকারখানা বন্ধ করে দেশকে আমদানিনির্ভর করা হয়েছে।

শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকেরা ভালো থাকলে দেশও ভালো থাকবে। শুধু বন্ধ কারখানা চালু নয়, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান আরও বাড়বে।

ঢাকার হকার উচ্ছেদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যানজট নিরসনের প্রয়োজনে হকারদের সরানো হলেও তাদের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, উচ্ছেদের পাশাপাশি তাদের পুনর্বাসন ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে। ইতোমধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে হকার পুনর্বাসনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্র সংস্কার ও ৩১ দফা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অগ্রগতি তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড চালুর পাশাপাশি শ্রমিক ও কৃষকদের পরিবারকে এর আওতায় আনা হবে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি ইতোমধ্যে কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে খেলাধুলা ও প্রতিভা বিকাশে নতুন উদ্যোগ এবং সেচ সুবিধা বাড়াতে খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় শুরু করার কথাও উল্লেখ করেন।

গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে একটি মহল এখনো ষড়যন্ত্র করছে বলে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের অগ্রগতি ঠেকাতে কিছু শক্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নেতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার জনগণের সমর্থনে গঠিত হওয়ায় বিশ্ব এখন বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে।

শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি আনোয়ার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা বক্তব্য দেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন