বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস বিশ্বনেতাদের
মীর মোহাম্মদ জসিম, জাতিসংঘ সদর দপ্তর, নিউইয়র্ক
জাতিসংঘের ৮০তম সাধারণ অধিবেশনে আজ (২৬ সেপ্টেম্বর, শুক্রবার নিউইয়র্ক সময়) ভাষণ দেবেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ ভাষণে তিনি বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন, রোহিঙ্গা সংকট, জলবায়ু পরিবর্তন, বাণিজ্য ও পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানাবেন।
এর আগে বুধবার জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। বৈঠকগুলোতে নেতারা বাংলাদেশের গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বিশেষভাবে আলোচনায় উঠে আসে রোহিঙ্গাদের জন্য অর্থায়ন বৃদ্ধি ও সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সহায়তা। একইসঙ্গে বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিতে সহায়তার আশ্বাসও দেন তারা।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বাংলাদেশ-ইতালি বাণিজ্য সম্পর্ক জোরদারের প্রতিশ্রুতি দেন এবং একটি বাংলাদেশ-ইতালি বিজনেস ফোরাম গঠনের প্রস্তাব করেন। তিনি ডিসেম্বরে বাংলাদেশ সফরের আশা প্রকাশ করেন। ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। কসোভার প্রেসিডেন্ট ভিজোসা ওসমানী বাংলাদেশের উন্নয়নে তার দেশের অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি ও সহযোগিতার আশ্বাস দেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফের সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক মজবুত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
এছাড়া ইউএস-বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিল আয়োজিত বৈঠকে ড. ইউনূস যুক্তরাষ্ট্রের মেটলাইফ, শেভরন, এক্সেলেরেটসহ শীর্ষ কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের আহ্বান জানান। ক্লাব ডি মাদ্রিদের সভাপতি ও স্লোভেনিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট দানিলো তুর্ক তাকে সংগঠনের সদস্য হওয়ার আমন্ত্রণ জানান এবং বাংলাদেশের চলমান গণতান্ত্রিক রূপান্তরে তার ভূমিকার প্রশংসা করেন।
বিশ্বব্যাংকের সভাপতি অজয় বাঙ্গার সঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয় নির্বাচন, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, চট্টগ্রাম বন্দর উন্নয়ন, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক একীকরণ ও চুরি হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে। বাঙ্গা গত ১৪ মাসে ড. ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, নিউইয়র্ক সফরে একাধিক দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বাংলাদেশের সঙ্গে বিভিন্ন দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

