বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

মুক্তিপণ চেয়ে অপহরণ: নৌ পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার চক্র, উদ্ধার বাল্কহেড

অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি করা সংঘবদ্ধ চক্রের দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। একইসঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের একটি বাল্কহেড।

নৌ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ জুলাই মুন্সিগঞ্জ সদর থানার মুক্তারপুর নৌ পুলিশ ফাঁড়ি সংলগ্ন ক্রাউন সিমেন্ট ফ্যাক্টরি এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ আল ফারুক ওরফে লিটনের মালিকানাধীন বাল্কহেডটি সিমেন্ট লোড করে ঢাকার আমিনবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাল্কহেডের সুকানি আক্তার হোসেন খান (৫০) এবং মিস্ত্রি বেল্লাল (৩৫) চালনায় ছিলেন। তবে মাঝপথে দুষ্কৃতিকারীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে বাল্কহেডটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

পরবর্তীতে চক্রটি নিজেদের ‘অপহরণকারী’ পরিচয়ে বাল্কহেডের মালিকের কাছে খবর পাঠায় যে সুকানি ও মিস্ত্রিকে অপহরণ করা হয়েছে এবং তাদের মুক্তিপণ ও বাল্কহেড ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ১০ লাখ টাকা দাবি করে।

বিষয়টি জানার পর নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি কুসুম দেওয়ানের নির্দেশনায় এবং এসপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স)-এর তত্ত্বাবধানে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ঢাকার উত্তরা থেকে বাল্কহেডের মিস্ত্রি বেল্লাল এবং বরিশাল থেকে তাদের সহযোগী মো. সবুজ ওরফে টগর (৩৫) গ্রেপ্তার করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা ঘটনার সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বরিশাল জেলার দুর্গম নদী এলাকা থেকে অপহৃত বাল্কহেডটি উদ্ধার করা হয়। চক্রটি মূলত বাল্কহেডটি কেটে বিক্রি করে দেওয়া এবং মালিকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের পরিকল্পনা করেছিল।

এ ঘটনায় বাল্কহেডের মালিক আব্দুল্লাহ আল ফারুক ওরফে লিটন মুন্সিগঞ্জ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় পূর্বপরিকল্পিত অপরাধমূলক বিশ্বাসভঙ্গ এবং চাঁদা দাবির অভিযোগ আনা হয়েছে।

নৌ পুলিশ জানায়, স্বল্প সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার এবং বাল্কহেড উদ্ধার তাদের একটি বড় সফলতা। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন