বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

কুমিল্লার মুরাদনগরে নারী নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী র‌‍্যাবের জালে

কুমিল্লার মুরাদনগরে এক নারীকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির পর সেই ঘটনার অশ্লীল ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত মোঃ শাহ পরানকে (২৮) গ্রেফতার করেছে র‌‍্যাব-১১।

র‍্যাবের গণমাধ্যম শাখা বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, কুমিল্লা জেলার বুড়িচং থানাধীন কাবিলা বাজার এলাকা থেকে শাহ পরানকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের সময় তার কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

র‍্যাব জানায়, গত ২৬ জুন দিবাগত রাতে কুমিল্লার মুরাদনগর থানাধীন বাহেরচর গ্রামের ভিকটিম তার পিতার বাড়িতে অবস্থানকালে, একই গ্রামের শহিদ মিয়ার ছেলে ফজর আলী কৌশলে ভিকটিমের ঘরে প্রবেশ করে। রাত প্রায় সাড়ে ১১টার দিকে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শাহ পরানের নেতৃত্বে আরও ৮-১০ জন ব্যক্তি দরজা ভেঙে ভিকটিমের ঘরে ঢুকে শারীরিক নির্যাতন ও শ্লীলতাহানির পাশাপাশি অশ্লীল ভিডিও ধারণ করে। পরবর্তীতে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

এ ঘটনায় ভিকটিম বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলার নং-২০, তারিখ-২৯/০৬/২০২৫।

র‌্যাবের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাহ পরান স্বীকার করেছেন, ব্যক্তিগত শত্রুতার জেরেই তিনি ভাই ফজর আলীর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নিতে এই ঘটনা পরিকল্পনা করেন। ঘটনার দুই মাস আগে ফজর আলীর সাথে তার বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির পর গ্রামের শালিসে জনসমক্ষে শাহ পরানকে চড় মারা হয়। এরপর থেকেই তিনি প্রতিশোধের সুযোগ খুঁজছিলেন। ঘটনার দিন ফজর আলী ভিকটিমের ঘরে ঢোকার পর শাহ পরান ও অন্যান্য সহযোগীরা পরিকল্পনা অনুযায়ী সেখানে হামলা চালায়।

র‌্যাব জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত শাহ পরানকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মুরাদনগর থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।

এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য এবং ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন