১২ জুন ২০২৫
অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি বাহিনীর লাগাতার হামলায় আরও ১২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। বুধবার (১১ জুন) সকাল থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সংঘটিত এই হামলাগুলোতে নিহতের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৫৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এমন তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা ও গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ।
নির্বিচার হামলা ও ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে প্রাণহানি
গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে জানানো হয়, নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই ছিলেন ত্রাণ সংগ্রহ করতে যাওয়া সাধারণ নাগরিক। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৭ জন ত্রাণ সংগ্রাহক নিহত এবং অন্তত ৩৬৩ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর ট্যাংক ও বিমান হামলায় গাজা সিটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বসতি ও অস্থায়ী আশ্রয়শিবির ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ চাপা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে উদ্ধারকর্মীরা।
বিতর্কিত সংস্থার বিতরণকেন্দ্রেই হামলা
গাজার স্বাস্থ্য বিভাগ দাবি করেছে, যেসব এলাকায় প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়েছে সেগুলো ছিল বিতরণকেন্দ্র, যা পরিচালনা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সমর্থিত ‘গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন’ (জিএইচএফ)। এই বিতরণকেন্দ্রগুলোর অবস্থান ছিল ইসরায়েলি সামরিক নিয়ন্ত্রণাধীন অঞ্চলে। এমন পরিস্থিতিতে এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত না করেই ত্রাণ কার্যক্রম চালানো নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
বিশ্বব্যাপী উদ্বেগ
গাজায় চলমান সংঘাতের ভয়াবহতায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, ইসরায়েলের এসব অভিযান আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের চরম লঙ্ঘন এবং এটি যুদ্ধাপরাধের শামিল হতে পারে।
জাতিসংঘের মহাসচিব একান্ত জরুরি হস্তক্ষেপ ও মানবিক করিডর খোলার আহ্বান জানালেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক চাপ উপেক্ষা করে ইসরায়েল গাজায় তার সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে।
প্রেক্ষাপট
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ এখন পর্যন্ত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কোনো একক ভূখণ্ডে সংঘটিত সবচেয়ে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নিয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় নিহতদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
অন্যদিকে, ইসরায়েল দাবি করেছে তারা হামাসের সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেই আক্রমণ চালাচ্ছে, যদিও বাস্তবতায় এর অধিকাংশ হামলা বেসামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করেই করা হচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর পর্যবেক্ষণ।

