সদস্যদের আবাসন ও জীবনমান উন্নয়নে আধুনিক ব্যারাক নির্মাণ | প্রায় এক হাজার সদস্যের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন নতুন ব্যারাক নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে বাহিনী
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণ, জীবনমান উন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত আধুনিকায়নের ধারাবাহিকতায় বাহিনীর সদর দপ্তরে নবনির্মিত সৈনিক ব্যারাক ‘প্রত্যয়’ উদ্বোধন করেছেন মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।
রোববার (৮ নভেম্বর) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যারাকটির উদ্বোধন করেন।
আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন এ ব্যারাকটি পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের উপযোগী করে নির্মাণ করা হয়েছে। সদস্যদের স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন ও দৈনন্দিন প্রয়োজন বিবেচনায় আধুনিক ডাইনিংসহ প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধাও সংযোজন করা হয়েছে।
এর মাধ্যমে সদর দপ্তরে কর্মরত সদস্যদের জন্য উন্নত, স্বাস্থ্যসম্মত ও সুশৃঙ্খল আবাসন পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নে বাহিনীর আন্তরিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন ঘটেছে।
আবাসন সংকট নিরসনে বৃহৎ পরিকল্পনা
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক বলেন, বাহিনীর সদর দপ্তরের সার্বিক উন্নয়নকে দীর্ঘমেয়াদি, পরিকল্পিত ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দেশের প্রেক্ষাপটে ভূমির সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় প্রতিটি স্থাপনা ও জায়গার সর্বোচ্চ কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। কোনো ক্ষেত্রেই সম্পদের অপচয় কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সদর দপ্তরের সদস্যদের দীর্ঘদিনের আবাসন সংকট নিরসনে যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে সম্প্রতি সম্প্রসারিত ভবনে আবাসন সুবিধা চালু করা হয়েছে।
পাশাপাশি আবাসন সংকট নিরসনে বৃহৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে প্রায় এক হাজার সদস্যের ধারণক্ষমতাসম্পন্ন একটি আধুনিক সৈনিক ব্যারাক নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দ্রুততম সময়ে প্রণয়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।
সদস্যদের কল্যাণ ও স্থাপনার রক্ষণাবেক্ষণে গুরুত্ব
মহাপরিচালক আরও বলেন, বাহিনীর সদস্যদের মৌলিক অধিকার, আবাসন সুবিধা ও সার্বিক কল্যাণ নিশ্চিত করা নেতৃত্বের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
অবকাঠামো ও সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং দীর্ঘস্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে ব্যারাকসহ সদর দপ্তরের বিভিন্ন স্থাপনার প্লাম্বিং, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা ও সার্বিক পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন এবং নিয়মিত তদারকির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে এসব কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনে আরও সচেতন, আন্তরিক ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমন্বিত উদ্যোগ, নিয়মিত পরিচর্যা ও কার্যকর তদারকির মাধ্যমে স্থাপনাগুলোর সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়ন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্ব বজায় রাখা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মহাপরিচালক।
পেশাদারিত্ব ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান
পেশাদারিত্বের বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীতে ব্যক্তিস্বার্থ, দায়িত্বে অবহেলা কিংবা কোনো ধরনের অনৈতিক আচরণের সুযোগ নেই।
দায়িত্ব পালনে নিষ্ঠা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে অবদান রাখা সদস্যদের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত করার পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলা ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
রাষ্ট্র ও বাহিনীর প্রত্যাশা পূরণে সব কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সদস্যকে নিজ নিজ দায়িত্ব শতভাগ সততা, নিষ্ঠা, জবাবদিহি ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে পালনের আহ্বান জানান মহাপরিচালক।
সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা, ব্যক্তিগত কর্মনিষ্ঠা, জবাবদিহি ও পেশাদার আচরণের সমন্বয়ের মাধ্যমেই একটি আধুনিক, দক্ষ ও কার্যকর বাহিনী গড়ে তোলা সম্ভব বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মামুনূর রশীদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

