অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

টেকনাফে অভিযানে নিহত সেনাসদস্য তিতাসের বাড়িতে শোক, বিয়ের আনন্দের পরই শোকের মাতম

মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলিতে আহত হয়ে মৃত্যু; ফরিদপুরের নগরকান্দায় মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনেরা

কক্সবাজারের টেকনাফে মানবপাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযানে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্য মো. তিতাস শেখ। তাঁর মৃত্যুর খবরে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া গ্রামের বাড়িতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজন ও পরিচিতজনেরা ভিড় করছেন বাড়িতে। আকস্মিক এ মৃত্যুতে শোকাহত পরিবারের সদস্যরা এখনো স্বাভাবিক হতে পারছেন না।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে কক্সবাজারের রামু সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিতাসের মৃত্যু হয়। এর আগে টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালী এলাকার দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনীর অভিযান চলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন তিনি।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে নিহত সেনাসদস্যের মামা ও লস্করদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান বাবুল তালুকদার জানান, তিতাসের মরদেহ বিকেলে গ্রামের বাড়িতে আনা হবে। এরপর জানাজা ও দাফনের সময় নির্ধারণ করা হবে।

তিনি বলেন, তিতাস অত্যন্ত ভদ্র ও নম্র স্বভাবের ছেলে ছিল। তাঁর এমন আকস্মিক মৃত্যু পরিবারের কেউ মেনে নিতে পারছেন না। নতুন সংসার শুরুর আগেই তাঁর চলে যাওয়া স্বজনদের জন্য গভীর বেদনার।

রঙ্গীখালীর পাহাড়ে যৌথ অভিযান

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) তথ্য অনুযায়ী, টেকনাফের রঙ্গীখালী এলাকার গহিন পাহাড়ে প্রায় ১২০ জন রোহিঙ্গা ও বাঙালি নাগরিককে ১৫ থেকে ১৬ জনের একটি সশস্ত্র মানবপাচারকারী দল জিম্মি করে রেখেছে—গোয়েন্দা সূত্রে এমন তথ্য পাওয়া যায়।

এর ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় পুলিশের সমন্বয়ে গঠিত যৌথ আভিযানিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এ সময় যৌথ বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীরা এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। একপর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি হয়।

এ সময় সেনাবাহিনীর সৈনিক তিতাস শেখ বাম কাঁধে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। পরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রামু সিএমএইচে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

উদ্ধার ৫৭ জিম্মি, আটক পাঁচ

আইএসপিআর জানায়, যৌথ বাহিনীর ওই অভিযানে জিম্মি অবস্থায় থাকা ৫৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানে দায়িত্ব পালনকালে তিতাসের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। শোকবার্তায় তাঁর আত্মত্যাগ শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করার পাশাপাশি বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়েছে।

মরদেহের অপেক্ষায় পরিবার

নিহত তিতাস শেখের বাড়ি ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়া ইউনিয়নে। তাঁর বাবার নাম আফজাল হোসেন। তিনি টেকনাফের রঙ্গীখালী আর্মি ক্যাম্পে কর্মরত ছিলেন।

নগরকান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা আফরিন জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত সেনাসদস্যের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করা হয়েছে। মরদেহ পৌঁছানোর পর জানাজা ও দাফনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

তিতাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই গ্রামের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও পরিচিতজনেরা ভিড় করছেন। প্রিয়জনকে শেষবারের মতো দেখার অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন