বেতন বৃদ্ধির দাবিতে কারখানার সামনে শ্রমিকদের জড়ো হওয়া নিয়ে উত্তেজনা; পুলিশের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ, অস্বীকার ওসির।
রাজধানীর পল্লবীতে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন পোশাক কারখানার সামনে জড়ো হওয়া শ্রমিকদের সরিয়ে দিচ্ছে পুলিশ। অন্যদিকে, মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বুধবার সকাল থেকে এসব এলাকায় পুলিশের উপস্থিতি বাড়ানো হলেও মিরপুর-১০-এ যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
কারখানার সামনে শ্রমিকদের জটলা
বুধবার সকাল ৯টার দিকে মিরপুরের পূরবী সিনেমা হলের গলিতে অবস্থিত কয়েকটি পোশাক কারখানার সামনে শ্রমিকদের জড়ো হতে দেখা যায়। এ সময় পুলিশ গিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
সেখানে উপস্থিত এক নারী শ্রমিক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, তাঁরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছেন। কিন্তু গণমাধ্যম তাঁদের বক্তব্য নিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ওই শ্রমিক বলেন, ‘আমরা নিজেদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আন্দোলন করছি। কিন্তু কোনো গণমাধ্যম আমাদের সাক্ষাৎকার নেয় না।’
আগের দিনের ঘটনা নিয়ে শ্রমিকদের অভিযোগ
ওই নারী শ্রমিকের অভিযোগ, আগের দিন আন্দোলন চলাকালে পুলিশ শ্রমিকদের মারধর করেছে। অথচ সংবাদমাধ্যমে রাস্তাঘাট পরিষ্কার ও যান চলাচল স্বাভাবিক থাকার খবর প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে আন্দোলন করি। আমরা শ্রমিক, আমাদের কাছে লাইটার আসবে কোথা থেকে? গাড়িতে যারা আগুন দিয়েছে, তারা বাইরের মানুষ।’
এদিকে, একদল শ্রমিকের অভিযোগ, নিরাপদে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে কারখানার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) সঙ্গে কথা বলতে তাঁরা সেখানে এসেছিলেন। কিন্তু পুলিশ তাঁদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করে সরিয়ে দিয়েছে বলে দাবি করেন তাঁরা।
অভিযোগ অস্বীকার পুলিশের
শ্রমিকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জালাল উদ্দিন।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, ‘শ্রমিকরা আসছেন। আমি নিজে পুলিশ ফোর্সসহ উপস্থিত আছি। এমন কোনো ঘটনা নেই।’
মিরপুর-১০-এ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সতর্ক অবস্থান
এদিকে, সকাল থেকেই মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। তবে সেখানে কোনো শ্রমিককে অবস্থান করতে দেখা যায়নি। ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

