বুধবার, ৪ নভেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে বিজ্ঞাপনে ব্যয় ১১৬০ কোটি ডলার

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন হতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল; রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন ও নির্বাচনী অনুদানের বড় অংশ আসছে অতি-ধনীদের কাছ থেকে।

যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন হতে যাচ্ছে। নির্বাচনী প্রচার ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যয়ের নতুন রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি এবারের নির্বাচনে অতি-ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোর বিপুল অনুদানও আলোচনায় এসেছে।

বিজ্ঞাপন ট্র্যাকিং প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাড ইমপ্যাক্ট’-এর তথ্য অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে শুধু রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনেই ব্যয় ১ হাজার ১৬০ কোটি (১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন) ডলারে পৌঁছাতে পারে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসহ যুক্তরাষ্ট্রের আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এ ব্যয় বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সবচেয়ে বড় ৫০ জন দাতা ও সংস্থা এ পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে ২৭৭ কোটি (২ দশমিক ৭৭ বিলিয়ন) ডলার অনুদান দিয়েছে। আল জাজিরা যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে নির্বাচনে বড় অঙ্কের অর্থদাতা, ধনকুবের ও কোম্পানিগুলোর ভূমিকা তুলে ধরেছে।

শীর্ষ ৫০ দাতার অনুদান ২৭৭ কোটি ডলার

২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ৫০ জন দাতা ও সংস্থার সম্মিলিত অনুদানের পরিমাণ ২৭৭ কোটি ডলার। সাধারণ মানুষের ছোট অঙ্কের অনুদানের বাইরে অল্পসংখ্যক অতি-ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে এত বিপুল অর্থ আসা নির্বাচনী অর্থায়নে তাঁদের প্রভাবের বিষয়টি সামনে এনেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাত্র ৫০ জন দাতার কাছ থেকে পাওয়া অনুদানের এই পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের আগের কোনো নির্বাচনে দেখা যায়নি।

অনুদানের ৬০ শতাংশ রিপাবলিকানপন্থিদের

শীর্ষ ৫০ দাতা ও সংস্থার অনুদানের মধ্যে রিপাবলিকানপন্থিরা দিয়েছেন ১৬৭ কোটি ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ৬০ শতাংশ।

অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটপন্থি দাতাদের অনুদানের পরিমাণ ৮৩ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা মোটের প্রায় ৩০ শতাংশ। অর্থাৎ, শীর্ষ দাতাদের কাছ থেকে রিপাবলিকানপন্থিদের পাওয়া অর্থ ডেমোক্র্যাটপন্থিদের অনুদানের প্রায় দ্বিগুণ।

দ্বিপক্ষীয় ও বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর অনুদান

শীর্ষ ৫০ দাতা ও সংস্থার অনুদানের অবশিষ্ট অংশ এসেছে দ্বিপক্ষীয় বা বিশেষ স্বার্থসংশ্লিষ্ট হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ বিভিন্ন পক্ষের কাছ থেকে। এর মধ্যে রয়েছে খেলাধুলায় বাজি ধরার ব্যবসা এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির পক্ষে কাজ করা গোষ্ঠী।

প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ শ্রেণির অনুদানের পরিমাণ প্রায় ২৬ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা মোট অনুদানের প্রায় ১০ শতাংশ।

নির্বাচনী অর্থায়নে অতি-ধনীদের ভূমিকা

আগামী ৩ নভেম্বরের ভোট সামনে রেখে বড় অঙ্কের অনুদান ও রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে ব্যয় যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনী অর্থায়নে ধনী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে মনোযোগ তৈরি করেছে।

অ্যাড ইমপ্যাক্টের পূর্বাভাস এবং ফেডারেল ইলেকশন কমিশনের তথ্যের ভিত্তিতে নির্বাচনী ব্যয়ের ব্যাপকতা তুলে ধরা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপনে সম্ভাব্য মোট ব্যয় এবং শীর্ষ ৫০ দাতার অনুদান—দুটি পৃথক হিসাব; এগুলোকে একসঙ্গে যোগ করে মোট নির্বাচনী ব্যয় হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন