হেবরনের কাছে নিজ বাড়ি থেকে আটক; একই অভিযানে ১৩ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ।
অধিকৃত পশ্চিম তীরের দক্ষিণাঞ্চলে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে আল জাজিরার সাংবাদিক মুনতাসের নাসসারকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) স্থানীয় সময় ভোরে হেবরন শহরের কাছে দুরা এলাকায় নিজ বাড়ি থেকে তাঁকে আটক করা হয়। এ সময় তাঁর চোখ বাঁধা ও হাতে হাতকড়া পরানো ছিল। পরে তাঁকে একটি সামরিক যানে তুলে নিয়ে যায় ইসরায়েলি সেনারা।
ভোরে বাড়িতে অভিযান, আটক হওয়ার ভিডিও প্রকাশ
আটকের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, চোখ বাঁধা ও হাতকড়া পরা অবস্থায় মুনতাসের নাসসারকে সামরিক যানের দিকে নিয়ে যাচ্ছেন ইসরায়েলি সেনারা।
আল জাজিরাকে বিভিন্ন সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার দুরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাসসারসহ ১৩ জনের বেশি ফিলিস্তিনিকে আটক করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। পরে তাঁদের সবাইকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে আটক ব্যক্তিদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
এর আগেও হামলার শিকার হয়েছিলেন নাসসার
এর আগে দুরা এলাকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার শিকার হয়েছিলেন মুনতাসের নাসসার ও তাঁর ক্যামেরাপারসন। ২০২৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর তাঁদের ওপর হামলা চালানো হলে দুজনের শরীরেই আঘাত ও কালশিটে পড়েছিল।
সর্বশেষ আটকের ঘটনা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের সুযোগ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সাংবাদিকদের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ বাড়ছে
ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর চাপ ও হয়রানি বাড়তে থাকার মধ্যেই নাসসারকে আটকের ঘটনা ঘটল।
ফিলিস্তিনি সাংবাদিক ইউনিয়নের তথ্য অনুযায়ী, শুধু গত আগস্ট মাসেই ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে সংবাদমাধ্যমকর্মীদের অধিকার লঙ্ঘনের ৮৪টি অভিযোগ নথিভুক্ত করা হয়েছে। এসব ঘটনার মধ্যে সাংবাদিকদের আটক এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনাও রয়েছে।
গণমাধ্যমের কার্যালয়েও অভিযান
এর আগে গত সপ্তাহে হেবরনে আল-গাদ টেলিভিশনের কার্যালয়ে অভিযান চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। এ ছাড়া ২০২৪ সালে পশ্চিম তীরের রামাল্লায় আল জাজিরার ব্যুরো কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে সেটি বন্ধ করে দেয় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ।
সাংবাদিকদের আটক, সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে অভিযান এবং সংবাদ সংগ্রহের সময় হামলার অভিযোগের ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ এ ঘটনা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গণমাধ্যমকর্মীদের কাজের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

