সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

অনলাইন প্রতারণায় এক বছরে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার হারিয়েছেন মার্কিনিরা

ঘণ্টায় ক্ষতি ২০ লাখ ডলারের বেশি; অর্থ উদ্ধারে সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতা, প্রতারণা বাড়াচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার।

অনলাইন প্রতারণার ফাঁদে পড়ে ২০২৫ সালে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি মার্কিন ডলার হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা। ঘণ্টার হিসাবে এই ক্ষতির পরিমাণ ২০ লাখ ডলারের বেশি। অথচ প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের হারানো অর্থ উদ্ধার এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেশটির সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে। ফলে বিপুল পরিমাণ অর্থ হারালেও তা ফেরত পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের যৌথ অর্থনৈতিক কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যদের এক অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। টাইম ম্যাগাজিনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাইবার প্রতারণায় মোট কত অর্থ হারিয়েছে, বিদেশে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্র থেকে কত অর্থ জব্দ হয়েছে এবং তার কতটা ভুক্তভোগীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে—এসবের পূর্ণাঙ্গ হিসাব কেন্দ্রীয় সরকারের কোনো সংস্থার কাছে নেই।

নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর ম্যাগি হাসান ও ভার্জিনিয়ার প্রতিনিধি ডন বেয়ারের নেতৃত্বে কমিটির সদস্যরা প্রতিবেদনটি তৈরি করেন। এতে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো, প্রতারণা প্রতিরোধে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভুক্তভোগীদের সহায়তায় কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলার সুপারিশ করা হয়েছে।

এক বছরে ইন্টারনেট অপরাধে ক্ষতি ২ হাজার ৯০ কোটি ডলার

অনলাইন প্রতারণা নতুন সমস্যা নয়। তবে সময়ের সঙ্গে এর ব্যাপ্তি ও আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের এপ্রিলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে দেশটির নাগরিকেরা অনলাইন প্রতারণায় প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার হারিয়েছেন। সব ধরনের ইন্টারনেট অপরাধের ক্ষতি হিসাব করলে এই অঙ্ক দাঁড়ায় ২ হাজার ৯০ কোটি ডলারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে ইন্টারনেট অপরাধে আর্থিক ক্ষতি বেড়েছে ২৬ শতাংশ। আর ২০২১ সালের তুলনায় ক্ষতির পরিমাণ প্রায় তিন গুণ হয়েছে।

ক্ষতির পরিমাণ বাড়লেও প্রতারণার অর্থ উদ্ধার এবং ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি উদ্যোগ একই গতিতে এগোচ্ছে না। কংগ্রেসের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রতারণায় হারানো অর্থের তুলনায় উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ সামান্য। পাশাপাশি অর্থ ফেরত দেওয়ার সরকারি উদ্যোগগুলোরও পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা হয় না।

উদ্ধার হওয়া অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নেই

এফবিআই কংগ্রেসের কমিটিকে জানিয়েছে, ২০২৫ সালে প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার ফেরত দিয়েছে সংস্থাটি।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সিক্রেট সার্ভিস ২০২৪ ও ২০২৫ অর্থবছরে জব্দ করা সম্পদ থেকে ৭৭ কোটি ডলারের বেশি অর্থ প্রতারণার শিকার ব্যক্তিদের ফিরিয়ে দিয়েছে। তবে এই অর্থের সবটাই সাইবার প্রতারণা থেকে উদ্ধার করা হয়নি; এর মধ্যে অন্যান্য ধরনের আর্থিক জালিয়াতির অর্থও রয়েছে।

জ্যাভলিন স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড রিসার্চের প্রতারণাবিষয়ক বিশ্লেষক সুজান স্যান্ডোর মতে, সরকারি হিসাবের এই খণ্ডিত চিত্র সমস্যার প্রকৃত ব্যাপ্তি বুঝতে বাধা সৃষ্টি করছে। বিভিন্ন সংস্থা ভিন্ন সময়সীমা ও ভিন্ন ধরনের অপরাধের তথ্য সংরক্ষণ করে। ফলে সব তথ্য একত্র করে সামগ্রিক পরিস্থিতি বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে।

স্যান্ডো বলেন, প্রতারণার শিকার ব্যক্তিরা বিভিন্ন দল ও সংস্থার কাছে অভিযোগ জানালেও সেগুলো আলাদা ব্যবস্থায় নথিভুক্ত হয়। সমন্বয়হীনতার কারণে প্রকৃত ক্ষতির হিসাব পাওয়া যায় না। ফলে অনলাইন প্রতারণায় মোট ক্ষতির পরিমাণ বাস্তবের তুলনায় কম হিসাব হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

প্রতারণা মোকাবিলায় নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ

সমস্যা মোকাবিলায় ‘রিপোর্ট স্ক্যামস ডট গভ অ্যাক্ট’ নামে একটি নতুন আইন প্রণয়নের সুপারিশ করেছে কংগ্রেসের প্রতিবেদন। দ্বিদলীয় এই বিলের সহপ্রস্তাবকদের একজন সিনেটর ম্যাগি হাসান। অন্যজন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান সিনেটর রিক স্কট।

বিলটির লক্ষ্য হলো প্রতারণা মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় সরকারের জন্য একটি সমন্বিত কৌশল তৈরি করা এবং নাগরিকদের অভিযোগ, তথ্য ও সহায়তা পাওয়ার জন্য একটি কেন্দ্রীয় ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

একটি সমন্বিত তথ্যব্যবস্থা থাকলে গবেষক, ভুক্তভোগীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন এবং সরকারি কর্মকর্তারা প্রতারণার প্রকৃত ব্যাপ্তি সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষও প্রতারণার নতুন কৌশল সম্পর্কে জানতে পারবেন। ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি ও প্রতিরোধের কৌশল তৈরি করাও সহজ হবে।

প্রতিবেদনে বিদেশে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্রগুলোর বিরুদ্ধে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আইন প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। যেসব দেশ এসব কেন্দ্র পরিচালনায় সহায়তা করে বা কার্যক্রম চলতে দেয়, তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় সরকারের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

বয়স্ক ও শিশুদের আর্থিক ক্ষতি নিয়ে উদ্বেগ

অনলাইন প্রতারণায় বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বয়স্ক মানুষ ও অপ্রাপ্তবয়স্করা। এফবিআইয়ের ২০২৫ সালের ইন্টারনেট অপরাধবিষয়ক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী মার্কিনিরা ওই বছর প্রায় ৭৭০ কোটি ডলার হারিয়েছেন। ২০২৪ সালের তুলনায় এই ক্ষতি বেড়েছে ৬০ শতাংশ। সব বয়সী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এই বয়সসীমার মানুষের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।

একই বছরে ১৮ বছরের কম বয়সীদের বিরুদ্ধে ইন্টারনেট অপরাধের ১৩ হাজার ১৬৮টি অভিযোগ জমা পড়ে। এসব ঘটনায় তাদের প্রায় ১ কোটি ৩০ লাখ ডলার ক্ষতি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি পরিসংখ্যানের চেয়েও বেশি হতে পারে। প্রতারণার শিকার অনেকেই লজ্জা, অন্যের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার ভয় কিংবা অর্থ ফেরত পাওয়ার আশা না থাকায় অভিযোগ জানান না।

সরকারি উদ্যোগ সমন্বিত হলে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ জানানোর সুযোগ বাড়বে। একই সঙ্গে অপরাধীদের শনাক্ত করা, আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে অর্থ উদ্ধার এবং ভবিষ্যতে একই ধরনের অপরাধ ঠেকানোর উদ্যোগও কার্যকর হতে পারে।

প্রতারণার হাতিয়ার হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা

সাইবার প্রতারণার ব্যাপ্তি বাড়ার পেছনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহারকেও গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার এবং ডিপফেইক প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান ব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন সুজান স্যান্ডো।

ডিপফেইক প্রযুক্তির সাহায্যে ছবি, কণ্ঠস্বর কিংবা ভিডিও এমনভাবে তৈরি করা যায়, যাতে কাউকে এমন কিছু বলতে বা করতে দেখা যায়, যা তিনি বাস্তবে করেননি। প্রতারকেরা এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বাসযোগ্য ভুয়া বার্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং কণ্ঠস্বর বা ভিডিও তৈরি করতে পারে।

স্যান্ডোর ভাষ্য, অপরাধীরা দীর্ঘ সময় ধরে কথোপকথন ও সম্পর্ক গড়ে তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা তাদের কম সময়ে আরও বিশ্বাসযোগ্য উপকরণ তৈরি এবং একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করার সুযোগ দিচ্ছে।

শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইবার পলিসি ইনিশিয়েটিভের নির্বাহী পরিচালক জেক ব্রাউনও প্রযুক্তির অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন। তাঁর মতে, আগে যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করতেন না, তাঁদের অনেকেই এখন অনলাইনে সক্রিয়। ফলে নতুন করে অনলাইনে যুক্ত হওয়া শিশু ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী প্রতারণার শিকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।

ব্রাউন বলেন, স্মার্টফোন ও ডিজিটাল অর্থ লেনদেনের সহজলভ্যতা মানুষের দৈনন্দিন জীবনকে সহজ করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে অপরাধীদের জন্যও প্রতারণার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে।

তিনি আরও জানান, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন স্থানে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র প্রতারণাকেন্দ্র পরিচালনা করে। এসব কেন্দ্রে পাচারের শিকার ব্যক্তিদের আটকে রেখে জোরপূর্বক অনলাইনে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করানোর ঘটনাও রয়েছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ও সীমিত জনবল অর্থ উদ্ধারে বাধা

চুরি হওয়া অর্থ উদ্ধার করা কঠিন হওয়ার অন্যতম কারণ হলো, এসব অপরাধ প্রায়ই একাধিক দেশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও অপরাধী চক্রের সঙ্গে জড়িত। অথচ এত বড় সমস্যা মোকাবিলায় কাজ করছে সীমিতসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থা, যাদের মধ্যেও কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের ঘাটতি রয়েছে।

জেক ব্রাউনের মতে, এ ধরনের তদন্তে একসঙ্গে কয়েক ডজন দেশের বিপুলসংখ্যক ভুক্তভোগীর ঘটনা বিবেচনায় নিতে হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষতির পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও সব ঘটনা মিলিয়ে চুরির পরিমাণ দাঁড়ায় কয়েক বিলিয়ন ডলারে।

তিনি বলেন, কোনো একটি ঘটনায় একবারে বিপুল অর্থ চুরির বদলে অপরাধীরা অনেক মানুষের কাছ থেকে কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলার করে নেয়। ফলে প্রতিটি ঘটনা আলাদাভাবে তদন্ত করা এবং সব ঘটনার যোগসূত্র খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ব্রাউন জানান, এ ধরনের অপরাধ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্মকর্তাদের সংখ্যা সীমিত। তাঁদের বড় অপরাধী চক্র ও মূল হোতাদের শনাক্ত করার দিকে বেশি মনোযোগ দিতে হয়। ফলে ব্যক্তিগত পর্যায়ে কয়েকশ বা কয়েক হাজার ডলার হারানোর প্রতিটি ঘটনা তদন্ত করার মতো পর্যাপ্ত জনবল ও সময় থাকে না।

বিভিন্ন সরকারি সংস্থা আলাদা ব্যবস্থায় তদন্ত ও অর্থ উদ্ধারের কাজ পরিচালনা করায় ভুক্তভোগীরা কোন সংস্থার কাছে অভিযোগ জানাবেন, তা বুঝতে সমস্যায় পড়েন। একই সঙ্গে সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রেও বাধা তৈরি হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর কংগ্রেসের যৌথ অর্থনৈতিক কমিটিকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও এশিয়ায় তাদের ৬০ জন কর্মী বিদেশে পরিচালিত প্রতারণাকেন্দ্র মোকাবিলায় উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করেন। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ হুমকি মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ তাদের হাতে রয়েছে বলেও জানিয়েছে দপ্তরটি।

প্রতারণা ঠেকাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি জরুরি

সুজান স্যান্ডোর মতে, প্রতারণা প্রতিরোধে বেসরকারি খাতের দায়িত্ব ও জবাবদিহি নিয়েও স্পষ্টতার অভাব রয়েছে। আর্থিক সেবা, টেলিযোগাযোগ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—একাধিক খাতের সেবা ব্যবহার করে প্রতারণা চালানো সম্ভব হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

তিনি মনে করেন, সরকারকে এসব উদ্যোগের মধ্যে সমন্বয় করতে হবে এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য স্পষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করতে হবে। একই ধরনের প্রতারণার চেষ্টা, আর্থিক ক্ষতি ও উদ্ধার হওয়া অর্থের তথ্য সংরক্ষণ এবং প্রকাশের ব্যবস্থাও থাকা প্রয়োজন।

বিশেষ করে ভুয়া বিজ্ঞাপন ও অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে তৈরি করা অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

জেক ব্রাউনের মতে, অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি তা আগেই ঠেকানোর উদ্যোগ জরুরি। এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জন্য সচেতনতামূলক শিক্ষা ও সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরিতেও সরকারি সহায়তা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতারণার ধরন ও ঝুঁকির মাত্রা বুঝে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর জন্য পৃথক সুরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বয়স্ক মানুষ, শিশু ও অভিবাসীদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সচেতনতা, প্রযুক্তিগত সুরক্ষা এবং সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন