দুটি পৃথক অভিযানে ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম স্বর্ণ উদ্ধার; আবুধাবিতে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কাস্টমস গোয়েন্দা
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী ফ্লাইটে এবং বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় পৃথক দুটি অভিযান চালিয়ে স্বর্ণের ছয়টি ‘ডিম’ জব্দ করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর (সিআইআইডি)। জব্দ করা স্বর্ণের মোট ওজন ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। এর আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
ফ্লাইটের যাত্রীর তথ্যের ভিত্তিতে স্বর্ণ উদ্ধার
এনবিআরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে আবুধাবিগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১২৭ ফ্লাইটের এক যাত্রীকে সন্দেহভাজন হিসেবে শনাক্ত করা হয়। পরে তাঁকে ফ্লাইট থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়। ফ্লাইটটির সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল।
ওই যাত্রীর কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম ওজনের তিনটি স্বর্ণের ‘ডিম’ উদ্ধার করা হয়।
বোর্ডিং ব্রিজে ফেলে রাখা আরও তিনটি স্বর্ণের ‘ডিম’ জব্দ
অপর অভিযানে বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজ এলাকায় ফেলে রাখা আরও তিনটি স্বর্ণের ‘ডিম’ জব্দ করেন কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। এসব স্বর্ণের ওজনও ১ কেজি ৩৬৪ গ্রাম।
দুটি অভিযানে উদ্ধার করা ছয়টি স্বর্ণের ‘ডিমের’ মোট ওজন দাঁড়িয়েছে ২ কেজি ৭২৮ গ্রাম। এনবিআরের হিসাবে, জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য ৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।
আবুধাবি থেকে আনা হয়েছিল স্বর্ণ, দাবি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, স্বর্ণের ‘ডিম’গুলো আগে আবুধাবি থেকে বাংলাদেশে আনা হয়েছিল। তবে দেশের বাজারে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় সেগুলো আবার আবুধাবিতে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।
তবে স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং এ ঘটনায় কোনো চোরাচালান চক্র জড়িত কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।
চোরাচালান চক্রের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখছে সিআইআইডি
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, জব্দ করা স্বর্ণের প্রকৃত উৎস, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা, সম্ভাব্য চোরাচালান চক্র এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়াও চলছে।

