সকাল ৯টা থেকে সড়কে শ্রমিকেরা, যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পথে গাড়ি চালানোর চেষ্টা ট্রাফিক পুলিশের
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে ফের রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বরে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। রোববার সকাল ৯টার দিকে মিরপুরের বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকেরা গোলচত্বরে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন।
শ্রমিকদের অবরোধের কারণে মিরপুর-১০ গোলচত্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এতে আশপাশের এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে বিকল্প পথে গাড়ি চলাচলের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছে ট্রাফিক পুলিশ।
মিরপুর-১০ দিয়ে যান চলাচল বন্ধ
মিরপুর ট্রাফিক বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মাহফুজুল হক বকশী বলেন, “পোশাক শ্রমিকরা আজও সড়ক অবরোধ করেছেন। বর্তমানে মিরপুর-১০ নম্বর দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। আমরা ডাইভারশন দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি।”
আগের দিনও একাধিক এলাকায় বিক্ষোভ
শনিবারও মিরপুরের একাধিক এলাকায় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন পোশাকশ্রমিকেরা। মিরপুর-১০, মিরপুর-১১, মিরপুর-১২ ও প্রশিকা মোড় এলাকায় তাঁদের আন্দোলনের কারণে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
এর আগের বৃহস্পতিবারও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকেরা। ওই দিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ গোলচত্বরে কয়েকশ শ্রমিক সড়কে নামেন। পরে তাঁরা সেখান থেকে সরে গেলেও একই দাবিতে পূরবী সিনেমা হলের সামনে মেট্রোরেলের ১১ নম্বর স্টেশন এলাকায় আবারও সড়ক অবরোধ করেন।
দুই দফায় প্রায় ছয় ঘণ্টা সড়ক অবরোধের পর বিকেলে শ্রমিকেরা সরে গেলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
নতুন মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছেন পোশাকশ্রমিকেরা। এর মধ্যে শনিবার শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী আরিফ জানান, বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণে রোববার নতুন বোর্ড গঠন করা হবে।
শ্রম আইন অনুযায়ী, সরকার চার সদস্যের একটি নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে। এতে থাকেন একজন চেয়ারম্যান, একজন নিরপেক্ষ সদস্য, একজন মালিক প্রতিনিধি ও একজন শ্রমিক প্রতিনিধি। কোনো নির্দিষ্ট শিল্পের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট শিল্পের মালিক ও শ্রমিক প্রতিনিধিরা বোর্ডের সঙ্গে কাজ করেন।
শ্রম আইনে মজুরি নির্ধারণের বিধান
শ্রম আইনের ১৩৯ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো শিল্পের মালিকপক্ষ, শ্রমিকপক্ষ অথবা উভয় পক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার ওই শিল্পের শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরির হার নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।

