তিন দিনের রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ, যাত্রাবাড়ী থানায় মামলাটি করেন নিহতের বাবা
চব্বিশের জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে জিহাদ হোসেন (২২) নামে এক যুবককে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় রিমান্ড শেষে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) তিন দিনের রিমান্ড শেষে তাঁদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করে পুলিশ। এরপর মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
রিমান্ড কার্যকর হয় চলতি সপ্তাহে
যাত্রাবাড়ী থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন (জিআর) শাখার কর্মকর্তা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মাঈন উদ্দিন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি আনিসুল হক ও চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন আদালত। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একাধিক মামলা থাকায় তখন এই মামলায় রিমান্ড কার্যকর করতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা।
মাঈন উদ্দিন বলেন, গত ১৪ অক্টোবর রিমান্ড কার্যকরের জন্য আদালতে আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আদালত ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রিমান্ড কার্যকরের নির্দেশ দেন। পরে রোববার তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়। তিন দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার তাঁদের আদালতে হাজির করা হয়।
জুলাই আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন জিহাদ
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই রাজধানীর শনির আখড়া ফুটওভার ব্রিজের নিচে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেন জিহাদ হোসেন। এ সময় তিনি গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় জিহাদের বাবা নুরুল আমিন মোল্লা ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৮৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

