বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

গুলিস্তানে ডিএসসিসির উচ্ছেদ অভিযান, শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট এলাকায় অভিযান, জব্দ মালামাল; মূল সড়কে হকার বসলে গ্রেপ্তারেরও হুঁশিয়ারি প্রশাসকের

রাজধানীর গুলিস্তানে সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযানে শতাধিক অবৈধ দোকান ও অবকাঠামো উচ্ছেদ করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ঢাকা ট্রেড সেন্টার ও ফুলবাড়িয়া সুপারমার্কেট-সংলগ্ন ফুটপাত এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় উচ্ছেদ করা স্থাপনার মালামাল ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

ডিএসসিসির চারজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, শতাধিক উচ্ছেদকর্মী এবং পর্যাপ্তসংখ্যক পুলিশ সদস্যের সহায়তায় অভিযানটি পরিচালিত হয়। অবৈধ স্থাপনা অপসারণে পে-লোডারসহ বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়।

অভিযান পরিদর্শনে ডিএসসিসি প্রশাসক

অভিযান সরাসরি পরিদর্শন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। এ সময় তিনি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন এবং সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে করপোরেশনের অবস্থান তুলে ধরেন।

ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, সিটি করপোরেশনের নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজধানীর রাস্তা ও ফুটপাত পরিষ্কার এবং দখলমুক্ত রাখা হচ্ছে। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট কিছু ফুটপাত, নৈশকালীন মার্কেট ও হলিডে মার্কেট নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। হকারদের কেবল নির্ধারিত স্থানগুলোতেই বসতে হবে।

তিনি আরও বলেন, গুলিস্তান থেকে সদরঘাট পর্যন্ত পুরো সড়ক পরিষ্কার রাখা হবে। মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না।

পুনরায় বসলে মালামাল জব্দ, গ্রেপ্তারের হুঁশিয়ারি

হকারদের আগে থেকেই সতর্ক করা হয়েছে জানিয়ে প্রশাসক বলেন, রাস্তা ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার চালানোর পাশাপাশি হকার সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করা হয়েছে। এরপরও উচ্ছেদের পর একই স্থানে পুনরায় বসার কারণে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়ম অমান্য করে সড়ক ও ফুটপাত দখল করলে মালামাল জব্দ করা হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারও করা হবে।

দখলমুক্তকরণ অভিযানকে চলমান প্রক্রিয়া উল্লেখ করে আবদুস সালাম জানান, পথচারীদের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

চার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান

অভিযান পরিচালনা করেন ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. রেজাউল করিম, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জোনায়েদ কবীর সোহাগ, সম্পত্তি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হাছিবা খান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (সিনিয়র সহকারী সচিব) মো. আমিনুল ইসলাম।

ডিএসসিসি জানিয়েছে, রাজধানীর সড়ক ও ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন