মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

অস্বাস্থ্যকর ড্রামে ভোজ্যতেল সংরক্ষণ, তিন প্রতিষ্ঠানকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা

শাহ আলী ও মিরপুরে অভিযান, লেবেলবিহীন সয়াবিন ও পাম তেল বিক্রিতে শনাক্ত অনিয়ম

রাজধানীতে অস্বাস্থ্যকর ও অপরিচ্ছন্ন ড্রামে খোলা ভোজ্যতেল সংরক্ষণ এবং লেবেলবিহীন সয়াবিন ও পাম তেল বিক্রির দায়ে তিন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে মোট দেড় লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। সোমবার (২৬ অক্টোবর) শাহ আলী, মিরপুর-১ ও কল্যাণপুরের নতুন বাজার এলাকায় খোলা ভোজ্যতেল বিক্রির কার্যক্রম তদারকির সময় এসব অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। প্রতিষ্ঠান তিনটিকে তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানা করা হয় এবং তা আদায় করা হয়েছে।

যে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান এবং প্রধান কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তাহমিনা বেগমের নেতৃত্বে অভিযান পরিচালিত হয়।

অভিযানে শাহ আলী মার্কেটের মেসার্স নিউ আহমেদ ট্রেডার্সকে নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর ড্রামে খোলা ভোজ্যতেল সংরক্ষণের দায়ে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

একই মার্কেটের নিউ হাওলাদার ট্রেডার্সকে অস্বাস্থ্যকর ড্রামে লেবেলবিহীন খোলা সয়াবিন ও পাম তেল সংরক্ষণের দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, কল্যাণপুরের নতুন বাজারে মেসার্স হাসেম জেনারেল স্টোরকে একই ধরনের অনিয়মের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত অভিযান

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন ‘Digitization of Fortification of Edible Oil for Improved Monitoring, Quality Control and Capacity Building’ প্রকল্পের আওতায় এ অভিযান পরিচালিত হয়। এতে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, শিল্প মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই), বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বাংলাদেশ শিল্প কারিগরি সহায়তা কেন্দ্র (বিটাক) এবং কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সমন্বিতভাবে অংশ নেয়।

ব্যবসায়ীদের সতর্কতা, ভোক্তাদের সচেতনতা

অভিযানকালে ব্যবসায়ীদের অস্বাস্থ্যকর ও অনিরাপদ পাত্রে খোলা ভোজ্যতেল সংরক্ষণ ও বিক্রি থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি, তেল সংরক্ষণের পাত্রে প্রয়োজনীয় তথ্যসংবলিত লেবেল প্রদর্শন নিশ্চিত করতে বলা হয়।

এ সময় উপস্থিত ভোক্তাদের ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন সম্পর্কে সচেতন করতে লিফলেট ও প্যামফ্লেট বিতরণ করা হয়। কোনো পণ্য বা সেবা কিনে প্রতারিত হলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানানোর আহ্বানও জানানো হয়।

বাজারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে এ ধরনের বাজার তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন