বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

পাংশায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন

রাজবাড়ীর পাংশায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ধর্ষণচেষ্টার মামলা দিয়ে হয়রানি করার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন জসিম উদ্দিন নামের এক ভেটেরিনারি চিকিৎসক।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের বিলচত্রা গ্রামে নিজ বাড়িতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি মামলাটিকে মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট দাবি করেন।

সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন জানান, প্রায় ১২ বছর আগে তাঁর বাবা বিলচত্রা গ্রামের মৃত কুরবান আলীর কাছ থেকে ১৩.৫০ শতাংশ জমি কেনেন। পরবর্তী সময়ে জমি রেজিস্ট্রি করে দেওয়া হলেও ৪.৫০ শতাংশ জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। কুরবান আলীর মৃত্যুর পর তাঁর ছেলে ওহেদুজ্জামান ওরফে ওলপেদ জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন।

জসিম উদ্দিন বলেন, গত ২৭ আগস্ট ওহেদুজ্জামান জোরপূর্বক ওই জমিতে ঘর নির্মাণের কাজ শুরু করেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা পাংশা থানায় লিখিত অভিযোগ দেন। থানায় বসে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও নির্ধারিত দিনে উভয় পক্ষের আলোচনার আগেই প্রতিপক্ষ চলে যান।

তিনি আরও জানান, পরবর্তী সময়ে জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় রাজবাড়ীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করেন। পাংশা থানা থেকে নোটিশ জারি করা হলেও আদালতের আদেশ অমান্য করে প্রতিপক্ষ ওই জমিতে টিনের বেড়া ও ঘর নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

জসিম উদ্দিনের অভিযোগ, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে উম্মে হাবিবা বৃষ্টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে তাঁর বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার মামলা করেছেন। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে জসিম উদ্দিন আরও দাবি করেন, মামলার বাদী ওই নারী এর আগেও এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করেছিলেন, যা অর্থের বিনিময়ে সমাধান করা হয়। এ ছাড়া ওই নারীর একাধিক বিয়ে হয়েছিল এবং বর্তমানে তিনি পঞ্চম স্বামীর সঙ্গে সংসার করছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এদিকে, মামলার পাঁচ সাক্ষীর মধ্যে বাদীর মেয়ে ছাড়া বাকি চারজন- ২ নম্বর সাক্ষী ওহেদুজ্জামান ওরফে ওলপেদ, ৩ নম্বর সাক্ষী মো. আজগার আলী, ৪ নম্বর সাক্ষী লিমন ও ৫ নম্বর সাক্ষী আকাশ- ঘটনাটি সম্পর্কে জানেন না বলে গোপনে ধারণ করা একটি ভিডিওতে তাঁদের বক্তব্যে উঠে এসেছে।

ভিডিওতে সাক্ষীদের কেউ জমি নিয়ে বিরোধের কথা উল্লেখ করেন, আবার কেউ এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান। তাঁদের মধ্যে একজনকে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মীমাংসা করে নেওয়ার পরামর্শ দিতে এবং অন্য একজনকে পুলিশ কাগজে সই করতে বলায় সই করেছেন বলে বক্তব্য দিতে শোনা যায়। ওই সাক্ষী আরও বলেন, কীভাবে কী ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।

এ বিষয়ে পার্শ্ববর্তী চায়ের দোকানদার মো. আনিসুর রহমান ও মো. উজ্জ্বল হোসেন জানান, আশপাশে এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেছে বলে তাঁরা জানেন না। এমন ঘটনা ঘটলে তাঁরা অবশ্যই জানতে পারতেন বলে মন্তব্য করেন তাঁরা।

মামলার বাদী উম্মে হাবিবা বৃষ্টি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে রাজি হননি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (পিবিআই), ফরিদপুরের উপপরিদর্শক (এসআই) সঞ্জয় দে বলেন, “তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন