প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে বললেন, দলের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নিতে শতভাগ প্রস্তুত; অন্য কাউকে প্রার্থী করলেও সহযোগিতা করবেন
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়া ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন কি এবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র পদে নির্বাচন করবেন? অস্ত্র হাতে ‘মাদকবিরোধী অভিযান’ নিয়ে বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগের ঘোষণা দিতে এসে এমন প্রশ্নের মুখে পড়েছেন তিনি। তবে মেয়র পদে নির্বাচন করার বিষয়ে সরাসরি কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি ইশরাক। তিনি বলেছেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের।
সোমবার দুপুরে কয়েকশ নেতাকর্মীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার ঘোষণা দেন ইশরাক। তাঁর ভাষ্য, অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী অভিযান নিয়ে বিতর্কের কারণে দল যাতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে না পড়ে, সে জন্য তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে মাদকের বিরুদ্ধে তাঁর ‘যুদ্ধ’ অব্যাহত থাকবে।
মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার সিদ্ধান্ত দলের
সংবাদ সম্মেলনে এক সাংবাদিক জানতে চান, প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার পর ইশরাক এখন মেয়র পদে নির্বাচনের কথা ভাবছেন কি না।
জবাবে অবিভক্ত ঢাকা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার বড় ছেলে ইশরাক বলেন, “মেয়রের নির্বাচনের বিষয়ে বলেছি, এটি সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এবং আমাদের আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের উনার এখতিয়ারভুক্ত এবং উনার একক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হবে।”
২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি যেটা বলেছি যে ইতিপূর্বে ২০২০ সালে এই নির্বাচনটি আমি করেছি। নির্বাচনের অভিজ্ঞতা আমার রয়েছে শুধু নয়, নগরীর বিভিন্ন সমস্যাগুলো নিয়ে আমি দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছি দলের নির্দেশনা অনুযায়ী।”
দলের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে নিজের প্রস্তুতির কথাও জানান ইশরাক। তিনি বলেন, দল তাঁকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নিলে তিনি শতভাগ প্রস্তুত। অন্য কাউকে প্রার্থী করা হলেও দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
২০২০ সালের নির্বাচনে পরাজিত হয়েছিলেন ইশরাক
২০২০ সালের ১ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য ইশরাক হোসেনকে প্রায় পৌনে দুই লাখ ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন আওয়ামী লীগের শেখ ফজলে নূর তাপস।
তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর গত ২৭ মার্চ ঢাকার নির্বাচনি ট্রাইব্যুনাল ওই নির্বাচনের ফল বাতিল করে ইশরাককে মেয়র ঘোষণা করেন। পরে ২৭ এপ্রিল তাঁকে ডিএসসিসির মেয়র ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন।
কিন্তু ইশরাকের শপথ গ্রহণ নিয়ে আইনি জটিলতা তৈরি হয়। তাঁকে শপথ না পড়ানোর নির্দেশনা চেয়ে গত ১৪ মে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের বাসিন্দা ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মামুনুর রশিদ।
অন্যদিকে, ইশরাককে শপথ পড়ানোর দাবিতে একই দিন আন্দোলন শুরু করেন তাঁর সমর্থকেরা। তাঁদের আন্দোলনে কার্যত অচল হয়ে পড়ে নগর ভবন। তবে আইনি জটিলতার কথা উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় ইশরাকের শপথের আয়োজন থেকে বিরত থাকে।
সে সময় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, যিনি বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র। ইতোমধ্যে আসিফ মাহমুদকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদপ্রার্থী ঘোষণা করেছে এনসিপি।
নগরীর সমস্যার সমাধানে কাজ করার কথা জানালেন ইশরাক
ঢাকা-৬ আসনের আওতাধীন সূত্রাপুর, ওয়ারী, গেণ্ডারিয়া ও কোতোয়ালি থানার আংশিক এলাকার সংসদ সদস্য ইশরাক বলেন, নগরীর সমস্যাগুলো নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। তাঁর মতে, নগর ব্যবস্থাপনায় কেবল মৌসুমি কর্মসূচি নয়, কাঠামোগত সমস্যার সমাধান এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করাও জরুরি।
তিনি বলেন, “আমাদের শুধু যে মৌসুমি যে কিছু কর্মসূচি হয় তা নয়, আমাদের যে স্ট্রাকচারাল প্রবলেম রয়েছে, এখানে যে একটা কেন্দ্রীয় পরিকল্পনার অভাব এবং এতগুলা সংস্থা তাদের সমন্বয়—নানাবিধ সমস্যা।”
নগরীর এসব সমস্যা নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ইশরাক বলেন, “এগুলো নিয়ে আমি দীর্ঘদিন যাবত কাজ করে আসছি, তাই আমি বলেছি যে আমি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি—যদি দল আমাকে মনে করে যে, আমার নির্বাচন করা প্রয়োজন দলের স্বার্থে, তাহলে আমি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “পাশাপাশি এও বলতে চাই, দল যদি অন্য যে কাউকে দেবে, তা আমার দলের ক্যান্ডিডেটকে জেতানোর জন্য আমি শতভাগ প্রস্তুত রয়েছি।”

