মাদ্রাসা মাঠে জনসভার প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে, তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয়; আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনা বিতরণের কর্মসূচি
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল রাজশাহী সফরে আসছেন। তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে বরেন্দ্র অঞ্চলে উৎসবমুখর পরিবেশ ও ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাকে সামনে রেখে রাজশাহী মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। মঞ্চ নির্মাণ, সড়ক সংস্কার ও নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রাজশাহী মহানগরীর প্রধান সড়ক, সড়ক বিভাজক ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলো নতুনভাবে সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াত নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে বিভিন্ন স্থানে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কার এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়েছে।
নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে জনসভার জন্য বিশাল মঞ্চ নির্মাণের কাজ চলছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল ব্যক্তি ও দলীয় নেতারা দিনরাত এসব প্রস্তুতি তদারকি করছেন।
মাদ্রাসা মাঠে বিশাল জনসভা
রাজশাহী সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বেশ কয়েকটি কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। রাজশাহী জেলা ও মহানগর বিএনপি আয়োজিত নগরীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন তিনি।
জনসভা থেকে উত্তরাঞ্চলের সামগ্রিক উন্নয়ন ও জাতীয় রাজনীতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সফরকালে প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় একটি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সমাবেশ পরিদর্শন করবেন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। এ ছাড়া উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকদের ভাগ্যোন্নয়নে সরকারের অঙ্গীকার তুলে ধরে আখচাষিদের মধ্যে প্রণোদনা ও বিশেষ সহায়তা বিতরণ করবেন।
নিরাপত্তায় তিন স্তরের ব্যবস্থা
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে রাজশাহী মহানগরী ও জনসভাস্থল ঘিরে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পুরো এলাকায় তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ), পুলিশ, এসআরবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে নগরীর প্রবেশপথগুলোতে তল্লাশিচৌকি স্থাপন করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ ও জনসভাস্থলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।
রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়জুল কবীর বাসসকে বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিন স্তরের নিরাপত্তাবলয় গড়ে তোলা হয়েছে। পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও সড়কে দায়িত্ব পালন করবেন।”
তিনি আরও বলেন, পুলিশ, এসআরবিসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছেন। কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিএনপির নেতাকর্মীদের ব্যাপক প্রস্তুতি
প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম পর্যালোচনা করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে কয়েক লাখ মানুষ জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভা সফল করতে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা।
ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর এ সফর একটি ঐতিহাসিক সফর। ইতোমধ্যে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে সফরটি সফল করতে কাজ করছেন।”
আখচাষিদের প্রত্যাশা কৃষি সহায়তায়
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও আখচাষিরা। তাঁদের প্রত্যাশা, কৃষি প্রণোদনা ও বিশেষ সহায়তা বিতরণের মাধ্যমে স্থানীয় কৃষকদের দীর্ঘদিনের দাবি ও সমস্যার সমাধানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে পদ্মাপাড়ের ঐতিহ্যবাহী রেশম নগরী রাজশাহীতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। জনসভা, কৃষি সহায়তা বিতরণ ও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে সফরটি ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।

