অনুসরণ করুন:
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় আদায় করব: শফিকুর রহমান

বিএনপি রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন করলেও জামায়াতে ইসলামী তাদের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং গণভোটের গণরায় আদায় করেই ছাড়বে তাঁর দল।

রোববার (১৮ অক্টোবর) বেলা ১১টায় রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের ১ বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিএনপি জনগণকে অবমূল্যায়ন করছে এবং নিজেদেরই শুধু জ্ঞানী মনে করছে। তাঁর দাবি, সরকার একের পর এক সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করছে। এরই ধারাবাহিকতায় এখন সরকারি কর্ম কমিশনেও (পিএসসি) রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা মেধার ভিত্তিতে নিজেদের যোগ্যতা অনুযায়ী অবস্থান নিশ্চিত করার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন। পিএসসির মাধ্যমে মেধাবীদের রাষ্ট্রীয় সেবায় যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। অথচ এখন রাজনৈতিক সরকারের প্রভাব খাটিয়ে পিএসসির সদস্যদের পদত্যাগ করতে বলা হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

জামায়াত আমির বলেন, পিএসসি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান; এটি কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসা নয়। চাকরির গুরুত্বপূর্ণ এই ক্ষেত্রকে দলীয় লোকজন দিয়ে পূর্ণ করার চেষ্টা হলে তা মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থার জন্য ক্ষতিকর হবে।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, যেসব এলাকার মানুষ বিএনপিকে ভোট দেয়নি বা দেবে না, সেসব এলাকায় বরাদ্দ না দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির রংপুর সফরে দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি এর প্রতিবাদ জানান।

তিনি বলেন, রাষ্ট্রের কোষাগারে জমা হওয়া অর্থ জনগণের করের টাকা। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ করের মাধ্যমে শিশু থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অবদান রয়েছে। রাষ্ট্রের অর্থ কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর সম্পদ নয়; এটি জনগণের সম্মিলিত অর্থ। তাই রাজনৈতিক বিবেচনায় উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য করা গ্রহণযোগ্য নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের জন্য বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হলেও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাঁর প্রশ্ন, বৈষম্য দূর করার প্রত্যাশা নিয়ে জুলাইয়ের আন্দোলনে এত মানুষের আত্মত্যাগের পরও কেন একই ধরনের রাজনৈতিক বৈষম্য ফিরে আসবে?

তিনি বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের লক্ষ্য ছিল পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে নতুন ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না বলে তিনি মনে করেন।

সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, আগের সরকারের মতো বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটছে। তাঁর অভিযোগ, মাত্র সাত মাসের মধ্যে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া আসন নিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা দেশের ১৮ কোটি মানুষের অধিকার রক্ষায় কাজ করবেন। কোনো ধরনের চাপ বা প্রলোভনে তাঁরা তাঁদের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় বাস্তবায়নের দাবিতে অনড় থাকার ঘোষণা দিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁদের নানা ধরনের প্রলোভন দেখানো হয়েছে, কিন্তু সেগুলো প্রত্যাখ্যান করেছেন তাঁরা। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন সমাজ গঠন, ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধ এবং মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁদের আন্দোলন।

তিনি আরও বলেন, এ আন্দোলন কোনো নির্দিষ্ট দলের স্বার্থে নয়; বরং জনগণের অধিকার নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য। কোনো ধরনের হুমকি বা চাপকে তাঁরা ভয় পান না।

আন্দোলনের ধরন সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশকে ভালোবাসার কারণে তাঁরা জ্বালাও-পোড়াওয়ের রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন না। ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে শান্তিপূর্ণভাবে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা জানান তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা বিএনপির পতন চাননি; বরং দলটির সফলতা চেয়েছিলেন, কারণ বিএনপির সফলতার সঙ্গে দেশের সফলতা জড়িত। তবে তাঁর দাবি, বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণে ব্যর্থ হচ্ছে।

বিএনপির ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগালের সমালোচনা করে তিনি অভিযোগ করেন, বাস্তবে দলটি নিজেদের ও পরিবারের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দেশকে সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

যুবসমাজের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, তরুণেরা জেগে উঠেছে এবং পূর্ণ মুক্তি অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত তারা থেমে থাকবে না। যুবকদের সঙ্গে নিয়ে তাঁরা আরও শক্তিশালীভাবে কাজ চালিয়ে যাবেন বলে জানান তিনি।

এবি পার্টির সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বীরবিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ এমপি এবং এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ অন্যরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন