অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

৮৩৪ শহীদের নাম নিয়ে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে ফলক উন্মোচন; ৮৩৪ শহীদের নাম খোদাই করা ৯০ ফুট উঁচু স্মৃতিস্তম্ভ

রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মরণে নির্মিত ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ এবং উদ্যানটির আধুনিকায়ন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছে গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে স্মৃতিস্তম্ভটির ফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের বাবা মোস্তাফিজুর রহমান, শাহারিয়ার খাঁন আনাসের মা সানজিদা খান দীপ্তি এবং ওয়াসিম আকরামের বাবা মোহাম্মদ শফিউল আলম।

উদ্বোধন শেষে স্মৃতিস্তম্ভ প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি নতুন রূপ পাওয়া ওসমানী উদ্যান ও এর ভেতরের গ্রন্থাগার ঘুরে দেখেন।

স্মৃতিস্তম্ভে ৮৩৪ শহীদের নাম

প্রায় এক একর জমিতে নির্মিত ৯০ ফুট উঁচু জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের গায়ে খোদাই করা হয়েছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ৮৩৪ জনের নাম। স্মৃতিস্তম্ভের সামনে রাখা হয়েছে ২০টি প্রতীকী সমাধিফলক।

স্মৃতিস্তম্ভের ভেতরে ও বাইরের রিলিফ ভাস্কর্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলনের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এতে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন, ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৯০ সালের এরশাদবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।

আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে ওসমানী উদ্যান

পুরান ও নতুন ঢাকার সীমানায় অবস্থিত ২৩ একর আয়তনের ওসমানী উদ্যানকে আধুনিক নাগরিক বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। উন্নয়নকাজের অংশ হিসেবে পুরোনো জলাশয় সংস্কারের পাশাপাশি নতুন পাঁচটি জলাশয় নির্মাণ করা হয়েছে।

বিদ্যমান গাছপালা সংরক্ষণের পাশাপাশি নতুন গাছ লাগিয়ে তৈরি করা হয়েছে সবুজ দ্বীপ। উদ্যানটিতে রয়েছে ৩ দশমিক ১ কিলোমিটার হাঁটার পথ, ব্যায়ামাগার, প্যাগোডা, পার্কিং সুবিধা, আধুনিক শৌচাগার এবং জলাশয়ের ঘাট।

এ ছাড়া বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে ৫০ হাজার লিটার ধারণক্ষমতার ব্যবস্থা। পথচারীদের দ্রুত ও নির্বিঘ্নে যাতায়াতের সুবিধার্থে সড়ক থেকে দুই মিটার উঁচুতে পৃথক হাঁটার পথও তৈরি করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং ঢাকা দক্ষিণ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের দুই প্রশাসক উপস্থিত ছিলেন।

জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ ও ওসমানী উদ্যানের আধুনিকায়নের মধ্য দিয়ে একদিকে গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মৃতি সংরক্ষণ, অন্যদিকে রাজধানীবাসীর জন্য উন্নত নাগরিক বিনোদনসুবিধা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন