বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরে মার্কেটে অগ্নিসংযোগের হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি, আদালতে জবানবন্দি

ঋণগ্রস্ত হয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তরুণ

গাজীপুরে এক লাখ টাকা চাঁদা না দিলে পাইকারি কাপড়ের মার্কেটে অগ্নিসংযোগের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তিনি।

গ্রেপ্তার তরুণের নাম মো. জুয়েল আহমেদ (২৫)। তিনি জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার কাঠার বিল গ্রামের সাদামিয়ার ছেলে। বাসন থানাধীন দিঘীরচালা এলাকা থেকে রোববার রাতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার তাঁকে গাজীপুর মহানগর আদালতে পাঠানো হলে তিনি জবানবন্দি দেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাসন থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল রানা।

ফোনে চাঁদা দাবি, না দিলে অগ্নিসংযোগের হুমকি

এসআই সোহেল রানা জানান, গত ৬ অক্টোবর বিকেলে চান্দনা চৌরাস্তার হাজী আব্দুর রহিম পাইকারি মার্কেটের পরিচালনা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিলটন হোসেনের মুঠোফোনে অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তি কল করেন। ওই ব্যক্তি তাঁর কাছে এক লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

মিলটন হোসেন চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে অভিযুক্ত ব্যক্তি সহযোগীদের নিয়ে মার্কেট পুড়িয়ে ফেলা এবং তাঁকে খুন-জখম করার হুমকি দেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা যেকোনো সময় কাপড়ের মার্কেটে আগুন দিয়ে ক্ষতিসাধন করতে পারেন—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়ে মিলটন হোসেন বাদী হয়ে বাসন থানায় মামলা করেন।

তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে গ্রেপ্তার

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) একটি তদন্ত দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে। এর ভিত্তিতে রোববার রাতে দিঘীরচালা এলাকা থেকে জুয়েল আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরদিন তাঁকে আদালতে পাঠানো হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বলে জানান এসআই সোহেল রানা।

ঋণ থেকে মুক্তি পেতে চাঁদা দাবির অভিযোগ

আসামির দেওয়া তথ্যের বরাতে এসআই সোহেল রানা বলেন, জুয়েল আহমেদ প্রায় পাঁচ বছর ধরে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করছেন। পাশাপাশি ক্যাসিনোতে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েন তিনি। সেই ঋণ থেকে মুক্তি পেতে মার্কেটের সামনের সাইনবোর্ড থেকে মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে চাঁদা দাবি করেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অন্য কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখছে পিবিআই

পিবিআই গাজীপুরের পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তার বলেন, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

এ ধরনের চাঁদাবাজি প্রতিরোধে মার্কেটে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তাপ্রহরী নিয়োগ এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন