মুক্তির পর আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপি নেতার; দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার, যন্তর মন্তর বন্ধ
বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে বিরত থাকার বিষয়ে কোনো ধরনের মুচলেকায় সই করার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছেন কাকরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) নেতা অভিজিৎ দীপকে। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রোববার (১১ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি লেখেন, ‘আমরা বিক্ষোভ বা আন্দোলন করব না—এমন কোনো মুচলেকায় সই করিনি। আমরা আবারও রাজপথে নামব।’
ঠাকুমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে মহারাষ্ট্রে যাচ্ছেন দীপকে
অভিজিৎ দীপকে জানান, শনিবার (১০ অক্টোবর) মারা যাওয়া তাঁর ঠাকুমার শেষকৃত্যে যোগ দিতে তিনি মহারাষ্ট্রে নিজ শহরের উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন।
এক্সে দেওয়া আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, শোকের এই মুহূর্তে পরিবারের পাশে থাকতে নিজ গ্রামে ফিরে যাচ্ছেন। তবে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানান তিনি।
দীপকে আরও লেখেন, সিজেপি পিছু হটবে না কিংবা ভীত হবে না। তাঁর ভাষ্য, ১০ অক্টোবরকে ‘এই স্বৈরাচারের শেষের সূচনা’ হিসেবে ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে।
এদিকে সিজেপির সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্তি
রোববার সকালে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নির্দেশে মুক্তি পান অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কা। এর আগে শনিবার দিল্লিতে একটি উড়োজাহাজ অবতরণের কয়েক মিনিটের মধ্যে উড়োজাহাজের ভেতর থেকেই তাঁদের আটক করা হয়।
প্রায় ২৪ ঘণ্টা আটক থাকার পর মুক্তি পেয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করেন দীপকে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও তাঁর সরকারের সমালোচনা করে তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মোদিকে ‘ভারতের লজ্জা’ বলে মন্তব্য করেন। মোদির মতো ‘কাপুরুষ’ ও ‘জুলুমবাজ’ দেশ আগে কখনো দেখেননি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে সিজেপির আইনবিষয়ক প্রধান রত্না সিংয়ের দাবি, ‘আগামী এক বছর শান্তিভঙ্গ করতে পারবেন না’—এমন শর্তে আদালত তাঁদের মুক্তি দিয়েছে। দীপকে মুচলেকায় সই করার দাবি প্রত্যাখ্যান করলেও আদালতের আরোপিত শর্তের বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে পার্থক্য রয়েছে।
দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার, যন্তর মন্তর বন্ধ
এদিকে রোববারও মধ্য দিল্লি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দিল্লি পুলিশ। যন্তর মন্তর বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দিল্লির সীমান্তজুড়ে কঠোর ব্যারিকেড দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অন্তত ৩০টি স্থানে যান চলাচল অন্য পথে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার প্রায় সাত হাজার মানুষকে আটক করার পরও সিজেপি আবার রাজপথে নামার ঘোষণা দেওয়ায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা সিজেপির
অভিজিৎ দীপকে আটক হওয়ার পর আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়া হয় সিজেপি নেতা অজিঙ্কা শিন্দের হাতে। তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলন থামবে না। রোববার তাঁরা আবার যন্তর মন্তরে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন।
দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়ে সিজেপি নেতারা জানিয়েছেন, আটকের ঘটনা তাঁদের কর্মসূচি থেকে সরিয়ে দিতে পারবে না।

