সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

‘আমাকে গ্রেপ্তার নয়, অপহরণ করা হয়েছিল’: ধ্রুব রাঠি

গুরুগ্রামে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ জনপ্রিয় ইউটিউবারের, মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ

ভারতের জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি অভিযোগ করেছেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভে যোগ দেওয়ার আগে হরিয়ানার গুরুগ্রামে তাঁর বাসা থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার বা আটক করেনি, বরং ‘অপহরণ’ করেছে। শনিবার গভীর রাতে মুক্তি পাওয়ার পর রোববার প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় এ অভিযোগ করেন তিনি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স ও ইনস্টাগ্রামে দেওয়া পোস্টে রাঠি বলেন, ‘আমাকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি, আমাকে অপহরণ করা হয়েছিল।’ এ সময় পুলিশের কাছে কোনো মুচলেকা বা অঙ্গীকারনামা দিয়েছেন বলে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরও নাকচ করেন তিনি।

গভীর রাতে মুক্তি, পরিবারের কাছে হস্তান্তর

কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ধ্রুব রাঠিকে মুক্তি দিয়ে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার সোসাইটিতে তাঁর নিজ বাসা থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছিল।

মুক্তির পর ভিডিও বার্তায় নিজের ভারতীয় পাসপোর্ট দেখিয়ে রাঠি বলেন, তিনি কোনো বিদেশি নাগরিক নন; একজন সাধারণ ভারতীয় নাগরিক হিসেবে তাঁর পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে।

সাদা পোশাকে লোকজনের বিরুদ্ধে জোর করে ঘরে ঢোকার অভিযোগ

ধ্রুব রাঠির অভিযোগ, ১০ অক্টোবর সকাল ৭টার দিকে তিনি যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন দরজার বাইরে সন্দেহজনক আনাগোনা দেখে তাঁর মা দরজা খোলেন। এ সময় ইউনিফর্ম পরা কোনো পুলিশ সদস্যের পরিবর্তে সাদা পোশাকে প্রায় ২০ জন লোক জোরপূর্বক তাঁদের বাড়িতে ঢুকে পড়ে।

রাঠি বলেন, ‘আমি কোনো প্রতিক্রিয়া দেখানোর আগেই এই লোকগুলো আক্ষরিক অর্থেই আমাকে অপহরণ করে। আমি এখানে অপহরণ শব্দটিই ব্যবহার করছি, কারণ এটি কোনো বৈধ গ্রেপ্তার ছিল না।’

তিনি আরও বলেন, বিক্ষোভস্থলে গেলে তাঁকে আটক করা হতে পারত। কিন্তু কোনো নেমপ্লেট ছাড়াই লোকজন পাঠিয়ে তাঁকে বাড়ি থেকে তুলে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

শারীরিক নির্যাতন ও আঘাতের দাবি

রাঠির দাবি, তাঁকে একজন চিহ্নিত অপরাধীর মতো করে বাসা থেকে বের করা হয়। শোবার ঘর থেকে টেনেহিঁচড়ে সিঁড়ি দিয়ে নামানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

এতে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন রয়েছে বলে দাবি করেন এই ইউটিউবার। এ ছাড়া আটকের পর তাঁকে আইনজীবীর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে তাঁর এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

মোদি সরকারের বিরুদ্ধে একনায়কতন্ত্রের অভিযোগ

নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে ‘অঘোষিত জরুরি অবস্থা’ হিসেবে বর্ণনা করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে ভারতকে একনায়কতন্ত্রের দিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন ধ্রুব রাঠি।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোনো আইন না ভেঙে শুধু সত্যের পক্ষে এবং উন্নত নির্বাচন কমিশনের দাবিতে কথা বলার কারণে কোনো নাগরিককে তাঁর শোবার ঘর থেকে এভাবে তুলে নেওয়া গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না।

রাঠি বলেন, ‘আমার সঙ্গে যদি এমনটা ঘটতে পারে, তবে কাল আপনার সঙ্গেও ঘটতে পারে।’

আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা

আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে অনশনের হুঁশিয়ারি দেওয়ায় পরিবেশকর্মী সোনাম ওয়াংচুককে ধন্যবাদ জানান ধ্রুব রাঠি। একই সঙ্গে চাপের মুখেও দেশের জন্য কথা বলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন তিনি।

রাঠি বলেন, ‘যত চাপই দেওয়া হোক না কেন, দেশের জন্য আমি একইভাবে আওয়াজ তুলে যাব। জয় হিন্দ।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আটককে কেন্দ্র করে ভারতে রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ধ্রুব রাঠির এ অভিযোগ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তবে তাঁর অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সামনে আসা গুরুত্বপূর্ণ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন