রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

বিপুল জমি, সীমিত উৎপাদন: মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে অগ্রগতি কোথায়?

অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সেবার ঘাটতি, জমি হস্তান্তরে বিলম্ব এবং শ্রমিকদের আবাসনসংকটে থমকে বিনিয়োগ; রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অর্জন সামান্য

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে দেশের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার উচ্চাভিলাষী উদ্যোগ নেওয়ার প্রায় এক দশক পরও প্রত্যাশিত গতি পায়নি জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (এনএসইজেড)। ৩৩ হাজার একর জমিজুড়ে বিস্তৃত এ মেগা প্রকল্পে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং রপ্তানি আয় বাড়ানোর লক্ষ্য থাকলেও বাস্তবে এখনো অধিকাংশ জমি উন্নয়নের বাইরে রয়েছে। অবকাঠামো নির্মাণে বিলম্ব, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-গ্যাস-পানির ঘাটতি, প্লট হস্তান্তরে জটিলতা এবং শ্রমিকদের আবাসন ও নিরাপত্তাসংকট প্রকল্পটির অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এ অর্থনৈতিক অঞ্চলে মাত্র ১৬টি প্রতিষ্ঠান বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করেছে। আরও ১৫টি প্রতিষ্ঠানের কারখানা নির্মাণাধীন রয়েছে। বিশাল এ শিল্পাঞ্চলের মাত্র ৫ হাজার ৫০০ একর জমি উন্নয়ন করা হয়েছে এবং ১৩৪টি প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

এ পর্যন্ত অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে দেশীয় বিনিয়োগ এসেছে ১২ হাজার ৮১৫ কোটি টাকা এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এসেছে ১৪ কোটি ৭০ লাখ ডলার। সব মিলিয়ে সরাসরি কর্মসংস্থান হয়েছে প্রায় ৮ হাজার মানুষের। অথচ প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে এখানে ১৪ থেকে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের এ ব্যবধানের পাশাপাশি রপ্তানি আয়েও পিছিয়ে রয়েছে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি। এখন পর্যন্ত এখানকার কারখানাগুলো থেকে মাত্র ৪ কোটি ৭২ লাখ ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে। অথচ প্রাথমিক পরিকল্পনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৪ হাজার কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

বেজার লক্ষ্য ছিল, ২০২৬ সালের মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে ৫৫০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং ২ লাখ ৩৮ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আগের প্রাক্কলন অনুযায়ী, চলতি দশকের শেষ নাগাদ এখানে মোট বিনিয়োগ ১ হাজার ৯০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু বিদ্যমান বাস্তবতায় এসব লক্ষ্য অর্জন নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

জমি বরাদ্দের পরও শুরু হচ্ছে না কারখানা

অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে জমি উন্নয়ন, সীমানা নির্ধারণ ও প্লট হস্তান্তরে বিলম্ব। অনেক উদ্যোক্তা জমি বরাদ্দ পেলেও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় কারখানা নির্মাণ ও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করতে পারছেন না।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতিকে (বিজিএমইএ) প্রায় ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হলেও এর কিছু অংশের সীমানা এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। এসব জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তরও করা হয়নি।

বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি রকিবুল আলম চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীরা জমির মূল্য পরিশোধ এবং প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করার পরও অপেক্ষায় রয়েছেন। তাঁর মতে, প্লট হস্তান্তর, সড়ক নির্মাণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে উদ্যোক্তারা দ্রুত কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন।

তিনি বলেন, এসব সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না। ফলে জমি বরাদ্দ থাকলেও তা উৎপাদনমুখী শিল্পে রূপান্তরিত হচ্ছে না।

ইউটিলিটি সেবার ঘাটতিতে বাড়ছে পরিচালন ব্যয়

অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে ইতোমধ্যে কারখানা স্থাপন করা প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ। শিল্পকারখানার উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাসের নির্ভরযোগ্য সরবরাহ অপরিহার্য হলেও এসব সেবার পর্যাপ্ততা ও ধারাবাহিকতা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা বিনিয়োগে কারখানা স্থাপন করা মডার্ন সিনটেক্সের জ্যেষ্ঠ মহাব্যবস্থাপক সফল বড়ুয়া বলেন, বড় বিনিয়োগের প্রকল্প লাভজনকভাবে পরিচালনার জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। এসব সুবিধা ছাড়া এ ধরনের শিল্পপ্রকল্প পরিচালনা করা প্রায় অসম্ভব।

তিনি জানান, কারখানাগুলো এখনো পানির চাহিদা মেটাতে ব্যাপকভাবে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরশীল। স্থায়ী ইউটিলিটি সংযোগ পুরোপুরি চালু না হওয়া পর্যন্ত নতুন বিনিয়োগকারীদের মধ্যে দ্বিধা থাকবে বলেও মনে করেন তিনি।

অবশ্য বেজা জানিয়েছে, অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে ইউটিলিটি অবকাঠামো সম্প্রসারণের কাজ চলছে। পরিকল্পিত ৩৮টি পানির পাম্প হাউসের মধ্যে ১৫টি চালু হয়েছে। পাশাপাশি একটি পানি শোধনাগার নির্মাণাধীন রয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চের মধ্যে শোধনাগারটির প্রথম ধাপের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এ ধাপে দৈনিক ৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয় ধাপে আরও দৈনিক ৫ কোটি লিটার পানি সরবরাহের সক্ষমতা যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রেও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজা। অর্থনৈতিক অঞ্চলটির বিদ্যুৎ গ্রিডে ট্রান্সফরমারের মোট সক্ষমতা ২ হাজার ২৮০ মেগাভোল্ট-অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ)। অন্যদিকে পল্লী বিদ্যুতায়ন এলাকার আওতায় সংযুক্ত বিদ্যুৎ লোড প্রায় ২৩০ মেগাওয়াট, যেখানে সর্বোচ্চ চাহিদা প্রায় ৬০ মেগাওয়াট।

এ ছাড়া কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি তিনটি স্টেশন স্থাপন করেছে। এসব স্টেশনের মাধ্যমে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৪০ লাখ ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে শিল্পকারখানার সংখ্যা ও চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত করাই কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।

যোগাযোগ, নিরাপত্তা ও জনবল নিয়োগে প্রতিবন্ধকতা

প্রধান মহাসড়ক থেকে ২০ থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে উপকূলীয় এলাকায় অর্থনৈতিক অঞ্চলটির অবস্থান হওয়ায় পণ্য পরিবহন, শ্রমিক নিয়োগ এবং দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যার মুখে পড়ছেন বিনিয়োগকারীরা।

প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা প্রতিষ্ঠান এসকিউ ইলেকট্রিক্যালসের মানবসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা এহসানুল কবির নিজামী বলেন, কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় কর্মী নিয়োগ এখনো বড় সমস্যা। রাতের বেলায় এলাকাটি নির্জন ও অন্ধকার হয়ে পড়ায় শ্রমিকেরা সেখানে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না; নিরাপত্তা নিয়েও তাঁদের উদ্বেগ রয়েছে।

নিরাপদ কর্মপরিবেশের পাশাপাশি সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, পরিবেশগত ছাড়পত্র, অগ্নিনিরাপত্তা অনুমোদন ও ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সেবা পেতে বিনিয়োগকারীদের এখনো একাধিক সরকারি সংস্থার সঙ্গে আলাদাভাবে যোগাযোগ করতে হয়। এতে সময় ও প্রশাসনিক জটিলতা বাড়ে।

বেজা জানিয়েছে, তাদের ওয়ান-স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) পোর্টালের মাধ্যমে বর্তমানে ৬২ ধরনের সেবা অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো ব্যবস্থার সঙ্গে পোর্টালটির সমন্বয়ের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তরের ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয়ের কাজ এখনো চলমান রয়েছে।

শ্রমিকদের আবাসন ও সামাজিক অবকাঠামোও জরুরি

শিল্পকারখানা গড়ে উঠলেও শ্রমিকদের বসবাস, যাতায়াত, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত না হলে অর্থনৈতিক অঞ্চলটির পূর্ণাঙ্গ বিকাশ কঠিন হবে। এ বাস্তবতায় শ্রমিকদের আবাসনসংকটও বিনিয়োগ ও উৎপাদন সম্প্রসারণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ সংকট মোকাবিলায় সাব-জোন ১৮-তে শ্রমিকদের জন্য স্বল্প ব্যয়ের আবাসন নির্মাণের কাজ চলছে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, বিপুলসংখ্যক শ্রমিকের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনায় আবাসনসহ সামাজিক অবকাঠামো আরও বিস্তৃত করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) সভাপতি আমিরুল হক বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলটির পূর্ণাঙ্গ বিকাশে ভৌত অবকাঠামোর পাশাপাশি সামাজিক অবকাঠামোর উন্নয়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষ্য, এখানে বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকলেও শ্রমিকদের বসবাসের জন্য আশপাশে এখনো উপযুক্ত সুযোগ-সুবিধা নেই।

তিনি আরও বলেন, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ এবং শ্রমিকদের জন্য উপযুক্ত আবাসন নিশ্চিত করা গেলে অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে বিনিয়োগ আকর্ষণ সহজ হবে।

বেজার তথ্য অনুযায়ী, অর্থনৈতিক অঞ্চলটির সহায়ক অবকাঠামোর কয়েকটি প্রকল্পের কাজ এখনো শেষ হয়নি। দক্ষতা উন্নয়ন কেন্দ্র ও শিশু দিবাযত্ন কেন্দ্রের নির্মাণকাজ ৮৭ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। পরিবেশগত পরীক্ষাগারের কাজ শেষ হয়েছে ৯৪ শতাংশ এবং জরুরি সাড়াদান কেন্দ্রের নির্মাণকাজ ৭২ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে।

এসব অবকাঠামো পুরোপুরি চালু হলে শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিশুদের যত্ন এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহায়তা মিলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা, বাস্তবায়নে সমন্বয়ের ঘাটতি

শুরুতে অগ্রগতি ধীর হলেও শিল্প খাতের নেতারা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ আকর্ষণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোর পাশাপাশি চীনের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানও এখানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জমি নিয়েছে।

এনএসইজেডের সাবেক পরামর্শক আবদুল কাদের খান মনে করেন, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে অর্থনৈতিক অঞ্চলটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা গেলে এখানে সরাসরি সর্বোচ্চ ১৪ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হতে পারে।

তিনি বলেন, অর্থনৈতিক অঞ্চলের অভ্যন্তরীণ সড়ক, পানি সরবরাহব্যবস্থা, গ্যাস পাইপলাইন ও বিদ্যুৎ গ্রিডের উন্নয়ন সমন্বিতভাবে করতে হবে। এ জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা জরুরি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বরাদ্দ দেওয়া জমিকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও ইউটিলিটি সুবিধাসম্পন্ন কার্যকর শিল্পপ্লটে রূপান্তর করা। দ্রুত জমি হস্তান্তর, নিরবচ্ছিন্ন সেবা, শ্রমিকদের আবাসন এবং সরকারি অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজ করা না গেলে বিনিয়োগের সম্ভাবনা বাস্তব উৎপাদন ও কর্মসংস্থানে রূপ দেওয়া কঠিন হবে।

‘অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী প্রকল্প’, বলছে কর্তৃপক্ষ

ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী প্রকল্প হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, প্রকল্পটি ঘিরে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার মধ্যে যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা দূর করা এখনো বড় চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, জ্বালানিসংকট একটি জাতীয় সমস্যা। শুধু নির্দিষ্ট কোনো অর্থনৈতিক অঞ্চলের সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে এ সংকট পুরোপুরি কাটানো সম্ভব নয়। কর্তৃপক্ষ যত দ্রুত সম্ভব সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছে, তবে বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের এ ধরনের সংকট তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় সব বিকল্প কর্তৃপক্ষের হাতে নেই বলেও জানান তিনি।

নিরাপত্তাব্যবস্থা সম্পর্কে আশিক চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। অর্থনৈতিক অঞ্চলে নজরদারি জোরদার করতে ডিজিটাল পর্যবেক্ষণব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।

অর্থনৈতিক অঞ্চলটিতে হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনা থাকলেও এ ক্ষেত্রে তেমন অগ্রগতি হয়নি বলে জানান ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান। তবে বিদ্যমান এক বা দুটি ভবনকে স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছে কর্তৃপক্ষ। এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই এখন মূল চ্যালেঞ্জ

জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল বাংলাদেশের শিল্পায়ন, রপ্তানি সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা বহন করে। কিন্তু জমি বরাদ্দ, অবকাঠামো নির্মাণ, ইউটিলিটি সংযোগ, শ্রমিকদের আবাসন এবং নিরাপত্তার মতো মৌলিক বিষয়গুলোতে দীর্ঘসূত্রতা থাকলে সেই সম্ভাবনা কাজে লাগানো কঠিন হবে।

প্রকল্পটির অগ্রগতি ত্বরান্বিত করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর সমন্বয় জোরদার, জমি হস্তান্তরের জটিলতা নিরসন, নিরবচ্ছিন্ন ইউটিলিটি সেবা নিশ্চিত এবং বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করা জরুরি। একই সঙ্গে শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন, যাতায়াত, চিকিৎসা ও অন্যান্য সামাজিক সুবিধা গড়ে তোলার ওপরও গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশাল জমি, বিনিয়োগের সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের উচ্চ লক্ষ্যমাত্রা থাকা সত্ত্বেও এনএসইজেড এখনো প্রত্যাশিত অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। ফলে প্রকল্পটির সাফল্য নির্ভর করছে পরিকল্পিত অবকাঠামো দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বরাদ্দ দেওয়া জমিকে কার্যকর শিল্প উৎপাদনে যুক্ত করার সক্ষমতার ওপর।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন