বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

সমঅধিকার ও মর্যাদার বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ধর্ম, বর্ণ বা পরিচয় কোনোভাবেই যেন মানুষের অধিকার ও সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার। দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণি-পেশা ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে দেশের প্রতিটি নাগরিকের কল্যাণে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী।

গতকাল বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এসব তথ্য জানান।

সবার সমান অধিকার নিশ্চিতের অঙ্গীকার

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে, যেখানে ধর্ম-বর্ণ ও পরিচয় মানুষের অধিকার ও সুযোগের ক্ষেত্রে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না।

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সব সম্প্রদায়ের মানুষের কল্যাণে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

হিন্দু-বৌদ্ধ প্রতিনিধিদের দাবি ও সমস্যার কথা শোনা

মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা তাদের বিভিন্ন সমস্যা, প্রয়োজন ও দাবি-দাওয়া প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সর্বোচ্চ করার চেষ্টা করা হবে বলে আশ্বাস দেন।

তিনি বলেন, প্রতিনিধিদের যৌক্তিক দাবি ও সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে।

দুর্গাপূজার ছুটি বাড়ানোয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা

সভায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্তের জন্য হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।

তারা বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত দেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে দুর্গাপূজার উৎসবের আনন্দ আরও বাড়িয়েছে।

এ সময় প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের আমন্ত্রণও জানান।

দুর্গাপূজা ও কঠিন চীবর দানের শুভেচ্ছা

প্রধানমন্ত্রী শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। একই সঙ্গে কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদেরও শুভেচ্ছা জানান তিনি।

দেশের সব নাগরিকের শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময় সভায় হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরাও প্রধানমন্ত্রীকে তাদের ধর্মীয় উৎসবের শুভেচ্ছা জানান।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা

শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টকে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের চেক হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী।

হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট দুর্গাপূজার জন্য ৪ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।

বরাদ্দের অর্থ হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। উপকারভোগীরা সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে এ অর্থ গ্রহণ করতে পারবেন।

বৌদ্ধ ধর্মীয় উৎসবেও ৩ কোটি টাকা অনুদান

কঠিন চীবর দান উপলক্ষে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

বৌদ্ধ ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এ অনুষ্ঠানের জন্য ২ কোটি টাকা অনুদান চেয়েছিল। প্রধানমন্ত্রী বিশেষ বিবেচনায় অনুদানের পরিমাণ বাড়িয়ে ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ দেন।

বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য হিন্দু ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

সভায় যারা উপস্থিত ছিলেন

মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, সংসদ সদস্য মিস সুবর্ণ ঠাকুর শিকদার, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহ-সভাপতি তপন চন্দ্র মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সন্তোষ শর্মা, বিএনপির সহ-ধর্মবিষয়ক সম্পাদক অমলেন্দু দাস অপু এবং বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য সুশীল চন্দ্র বড়ুয়াসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময় সভায় ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সমস্যা, উৎসব আয়োজন এবং সরকারি সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সরকার সব সম্প্রদায়ের মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে কাজ করবে—প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে এ অঙ্গীকারের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন