বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে স্মারকলিপি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তার দাবিও
ভারতীয় মিডিয়ায় গুরুত্ব দিয়ে খবর প্রকাশ • শিয়ালদহ থেকে বাংলাদেশ মিশন অভিমুখে মিছিল • পুলিশের ব্যারিকেডে আটকা বিক্ষোভকারীরা • পাঁচ প্রতিনিধি মিশনে গিয়ে স্মারকলিপি দেন • দুর্গাপূজায় অতিরিক্ত বরাদ্দ ও পাঁচ দিনের ছুটির জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ
বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মুক্তির দাবিতে ভারতের কলকাতায় মিছিল ও বিক্ষোভ হয়েছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) শিয়ালদহ রেলস্টেশন থেকে বাংলাদেশ উপহাইকমিশন অভিমুখে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। বিষয়টি ভারতের একাধিক সংবাদমাধ্যমে গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশিত হয়েছে।
ভারতের Times of India জানিয়েছে, চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তির দাবিতে আয়োজিত মিছিলে ধর্মীয় সংগঠনের পাশাপাশি ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ার (এনসিপিআই) সদস্যরাও অংশ নেন।
বাংলাদেশ মিশন-সংশ্লিষ্ট সূত্র উদ্ধৃত করে UNB জানিয়েছে, বিবেকানন্দ মিশন সেবা প্রতিষ্ঠান ও এনসিপিআইয়ের ব্যানারে প্রায় ১০০ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
শিয়ালদহ থেকে বাংলাদেশ মিশনের পথে
বিক্ষোভকারীরা শিয়ালদহ রেলস্টেশন থেকে মিছিল শুরু করে কলকাতায় বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের দিকে অগ্রসর হন। তবে মিশনের কাছাকাছি পৌঁছানোর আগেই কলকাতা পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাঁদের থামিয়ে দেয়।
অন্য কয়েকটি প্রতিবেদনে বিক্ষোভকারীদের একাংশের ব্যারিকেড সরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টার কথা বলা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ মিশন-সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, শেষ পর্যন্ত কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবেই শেষ হয়।
আগাম অনুমতি নিয়ে কর্মসূচিটি আয়োজন করা হয়েছিল এবং বাংলাদেশ মিশন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে নিরাপত্তাব্যবস্থা নেয়।
পাঁচজন গেলেন উপহাইকমিশনে
মিছিল আটকে দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীদের পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে বাংলাদেশ উপহাইকমিশনে যাওয়ার অনুমতি দেয় পুলিশ।
সেখানে বাংলাদেশ মিশনের হেড অব চ্যান্সারি ও সেকেন্ড সেক্রেটারির কাছে একটি স্মারকলিপি তুলে দেন তাঁরা।
স্মারকলিপিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করে তাঁর দ্রুততম মুক্তির ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়সহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান আয়োজকেরা।
বিশেষ করে দুর্গাপূজার সময় এবং এর পরবর্তী সময়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদও
কর্মসূচিতে বাংলাদেশের সমালোচনা ও দাবি উত্থাপনের পাশাপাশি সরকারের একটি উদ্যোগের প্রশংসাও করেছেন প্রতিনিধিরা।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ এবং পূজার ছুটি পাঁচ দিনে সম্প্রসারণের জন্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানান তাঁরা। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর সুস্বাস্থ্য কামনা করা হয়।
প্রায় দুই বছর ধরে কারাগারে চিন্ময়
চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ২০২৪ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকায় গ্রেপ্তার হন। চট্টগ্রামে জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছিল।
বর্তমানে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। সাম্প্রতিক সময়ে হাইকোর্ট ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা আরও দুটি মামলায় তাঁকে জামিন দিয়েছেন। তাঁর আইনজীবীর তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি মামলার মধ্যে চারটিতে তিনি হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন।
তবে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় তাঁর জামিন স্থগিত রয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামের আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলার বিচারও চলমান। ফলে অন্য মামলায় জামিন পেলেও তিনি এখনই কারাগার থেকে মুক্তি পাচ্ছেন না।
২০২৪ সালের ২৬ নভেম্বর চট্টগ্রাম আদালতে তাঁর জামিন শুনানিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার মধ্যে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ নিহত হন। পরে আলিফের বাবা হত্যা মামলা করেন এবং সেই মামলায়ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ফের আলোচনায়
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আটক ও তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলো এর আগেও ভারতের সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছে। সেপ্টেম্বরে The Indian Express তাঁর আইনজীবীর বক্তব্যের ভিত্তিতে তাঁর স্বাস্থ্য, জামিন এবং চলমান মামলাগুলো নিয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
এবার কলকাতায় তাঁর মুক্তির দাবিতে সরাসরি বাংলাদেশ উপহাইকমিশন অভিমুখে মিছিল এবং মিশনে স্মারকলিপি দেওয়ার ঘটনায় বিষয়টি আবারও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে সামনে এলো।
তবে বিক্ষোভকারীদের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা-সংক্রান্ত বক্তব্য ও অভিযোগ তাদের নিজস্ব দাবি। বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত ঘটনা হিসেবে না দেখে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সূত্র: Times of India, UNB

