শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা, জ্ঞানার্জনের পরিধি বাড়ানো এবং পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি শিক্ষামূলক ও সৃজনশীল বই পড়ায় আগ্রহী করে তুলতে সরকারের নেওয়া বইপড়া কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্বাচিত হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে মোট ৫১০টি বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে বাউফল উপজেলার দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নির্বাচন করা হয়েছে।
কর্মসূচির আওতায় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাস, জীবনী, বিজ্ঞান, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি, নৈতিক শিক্ষা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিভিন্ন বই পড়ার সুযোগ তৈরি করা হবে। এর মাধ্যমে শিশুদের নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে ওঠার পাশাপাশি তাদের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি, সৃজনশীলতা ও ভাষাগত দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
বিদ্যালয়ে শ্রেণি ও বয়স উপযোগী বই পড়ার সুযোগ তৈরির পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময়ে বই পড়া, বই নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের সহায়তা, পাঠ-পরবর্তী আলোচনা এবং বিভিন্ন পাঠভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়াকে আনন্দদায়ক ও নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত করার চেষ্টা করা হবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, শিশুদের শুধু পরীক্ষাভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে ছোটবেলা থেকেই পাঠ্যবইয়ের বাইরে বিভিন্ন ধরনের বই পড়ার সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। এতে তাদের শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হওয়ার পাশাপাশি নতুন বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ, চিন্তাশক্তি ও নিজের ভাবনা প্রকাশের সক্ষমতা বাড়ে।
অভিভাবকরাও এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, বর্তমানে অনেক শিশু মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ডিজিটাল বিনোদনে বেশি সময় ব্যয় করছে। এ অবস্থায় বিদ্যালয়ভিত্তিক বইপড়া কর্মসূচি শিশুদের সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, বইপড়া কর্মসূচির পাইলটিং কার্যক্রমে বিদ্যালয়টি নির্বাচিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ আরও বাড়বে। কর্মসূচিটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সমন্বিত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, পাইলটিং কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা ও ফলাফল মূল্যায়নের মাধ্যমে ভবিষ্যতে দেশের আরও বেশি সংখ্যক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ কর্মসূচি সম্প্রসারণ করা সম্ভব হবে। এর ফলে প্রাথমিক পর্যায় থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিয়মিত বই পড়ার সংস্কৃতি গড়ে উঠবে এবং জ্ঞানভিত্তিক প্রজন্ম গঠনে উদ্যোগটি ভূমিকা রাখবে।
দাসপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে পাইলটিং কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করায় বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। এ উদ্যোগের জন্য সংশ্লিষ্টরা সরকারের প্রতি অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

