সদরঘাটে আকস্মিক পরিদর্শন; নৌযানে দৃশ্যমান স্থানে ডিজিটাল ভাড়ার তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ
নৌপথে যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। এ সময় টার্মিনালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা, যাত্রীসেবা, লঞ্চ চলাচল, ভাড়া আদায় ব্যবস্থা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা ঘুরে দেখেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, যাত্রীদের কাছ থেকে কোনোভাবেই নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া যাবে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিকভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।
যাত্রীরা যেন সহজেই নির্ধারিত ভাড়া সম্পর্কে জানতে পারেন, সে জন্য সদরঘাটসহ যাত্রীবাহী নৌযানে ভাড়ার ডিজিটাল তালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন বাধ্যতামূলক করার নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী। এতে ভাড়া নিয়ে বিভ্রান্তি ও যাত্রী হয়রানি কমবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোনো যাত্রী যেন হয়রানি, ভোগান্তি কিংবা অপ্রয়োজনীয় বিড়ম্বনার শিকার না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে। যাত্রীদের সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও নৌযান শ্রমিকদের দায়িত্বশীল ও সৌজন্যমূলক আচরণেরও নির্দেশ দেন তিনি।
পরিদর্শনের সময় প্রতিমন্ত্রী লঞ্চে থাকা যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন।
সদরঘাট টার্মিনালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, যাত্রীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং টার্মিনালের পরিবেশ আরও উন্নত করতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় সদরঘাটের বিদ্যমান অবকাঠামোও পর্যবেক্ষণ করেন প্রতিমন্ত্রী। যাত্রীসেবার মান বাড়ানোর পাশাপাশি আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন তিনি। নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন নৌযাত্রা নিশ্চিত করাকে সরকারের অগ্রাধিকারের বিষয় হিসেবেও উল্লেখ করেন।
টার্মিনাল ও যাত্রীবাহী নৌযানগুলো নিয়মিত পরিদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম, সদস্য (অর্থ) ক্যাপ্টেন (অব.) মো. মোয়াজ্জেম হোসেন, সদস্য (প্রকৌশল) রকিবুল ইসলাম তালুকদার, পরিচালক (বন্দর ও পরিবহন) মো. সাইফুল ইসলাম, পরিচালক (নৌসওপ) ক্যাপ্টেন (অব.) মো. শাহজাহান এবং প্রধান প্রকৌশলী (পুরঃ) মো. সাইদুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

