অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘জামায়াতের দায়িত্বশীলদের মানবিক গুণ ও নৈতিক মানে সেরা হতে হবে’

সিলেটে দুই দিনব্যাপী রুকন শিক্ষাশিবিরের সমাপনী অনুষ্ঠানে ডা. শফিকুর রহমান

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেছেন, দলের দায়িত্বশীলদের মানবিক গুণাবলি ও উন্নত নৈতিকতার দিক থেকে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে যোগ্যতা, দক্ষতা ও নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়িয়ে সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখ ও প্রয়োজনের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সিলেট নগরীর মদিনা মার্কেট এলাকার একটি মিলনায়তনে সিলেট মহানগরী জামায়াত আয়োজিত দুই দিনব্যাপী রুকন (সদস্য) শিক্ষাশিবিরের সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সংগঠনের প্রতিটি পর্যায়ে দায়িত্বশীলদের নিজেদের যোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা জোরদার করতে হবে। মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তাদের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

আগামী দিনের স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিটি স্থানীয় নির্বাচনে যোগ্যতা, দক্ষতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতার দিক থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে।

‘মানুষকে সম্মান দিয়ে কথা বলতে হবে’

জামায়াত আমির বলেন, ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে সুশাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে তাদের কাজ করতে হবে। মানুষের সঙ্গে আচরণের ক্ষেত্রে প্রত্যেকের মর্যাদার প্রতি সম্মান দেখানো এবং সম্মানজনকভাবে কথা বলার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

দলের কার্যক্রমকে আরও জনসম্পৃক্ত করতে মানুষের সুখ-দুঃখে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে হবে।

আর্থিক লেনদেনে স্বচ্ছতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, দায়িত্বশীলদের অবৈধ উপার্জন থেকে দূরে থাকতে হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সব ধরনের লেনদেনে স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বজায় রাখতে হবে।

পরিবারেও অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিতের আহ্বান

বক্তব্যে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের বিষয়েও বিস্তারিত কথা বলেন বিরোধীদলীয় নেতা। মা-বাবার সঙ্গে সদাচরণের পাশাপাশি স্ত্রী, শ্বশুর-শাশুড়িসহ পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার আহ্বান জানান তিনি।

সন্তানদের সঙ্গে কোমল ও দায়িত্বশীল আচরণের পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, সন্তান বিপথে গেলেও তাকে অভিশাপ না দিয়ে সংশোধনের জন্য চেষ্টা ও দোয়া করা উচিত। ছেলে ও মেয়ের মধ্যে বৈষম্য না করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি বলেন, সন্তানের স্বার্থ রক্ষার নামে অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করা উচিত নয়। পরিবার থেকেই নৈতিকতা, ন্যায়বোধ ও দায়িত্বশীলতার চর্চা শুরু করতে হবে।

নেতৃত্বে দক্ষতা ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ওপর জোর

শফিকুর রহমান বলেন, ভবিষ্যতের দায়িত্ব পালনের জন্য যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই। এজন্য নিয়মিত জ্ঞানচর্চা, আত্মশুদ্ধি ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ব্যক্তিগত, নৈতিক ও সাংগঠনিক সক্ষমতা বাড়াতে হবে।

সংগঠনের প্রতিটি স্তরে দায়িত্বশীলতা, শৃঙ্খলা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তৈরি করতে পারলেই তাদের আস্থা অর্জন সম্ভব হবে।

কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও সিলেট মহানগরী জামায়াতের আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান আলীর পরিচালনায় শিক্ষাশিবির অনুষ্ঠিত হয়।

এতে জামায়াতের সিলেট অঞ্চল টিম সদস্য হাফিজ আব্দুল হাই হারুন, মহানগরীর নায়েবে আমির হাফিজ মিফতাহুদ্দীন ও ড. নূরুল ইসলাম বাবুল, জেলা নায়েবে আমির অধ্যাপক আব্দুল হান্নান, মহানগর সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুর রব ও জাহেদুর রহমান চৌধুরী, অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী, উপাধ্যক্ষ আব্দুস শাকুর ও মাওলানা আব্দুল মুকিতসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষাশিবিরে সিলেট মহানগরীর রুকনরা অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম নৈতিক ও সাংগঠনিক মানোন্নয়নে নিয়মিত প্রশিক্ষণ, আত্মশুদ্ধি ও জ্ঞানচর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে দায়িত্বশীলদের নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশের পাশাপাশি নতুন নেতৃত্ব তৈরিতে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন