অনুসরণ করুন:
রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে হাম-ডেঙ্গুর ‘অসম প্রতিযোগিতা’, একদিনে আরও ৭ প্রাণহানি

রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশে উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে হাম ও হামের উপসর্গের সংক্রমণ। একই সঙ্গে ঊর্ধ্বমুখী ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে পাঁচজন এবং ডেঙ্গুতে দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

এ সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ২০ জন। অন্যদিকে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ১ হাজার ২৩২ জন। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক পৃথক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২০ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২০ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ দেখা দিয়েছে।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৫৩ জনে। মৃতদের মধ্যে নিশ্চিত হামে ১০১ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৯৫২ জন মারা গেছেন। মৃতদের সবাই শিশু বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭৮ হাজার ৬৬৬ জন। একই সময়ে ২০ হাজার ৪৭৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৫৭ হাজার ৫৫৬ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৫১ হাজার ৩৯৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

অন্যদিকে, ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ২৩২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৩৭৯ জনে।

একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭৮ জনে। মৃতদের মধ্যে ৫২ শতাংশ নারী এবং ৪৮ শতাংশ পুরুষ।

মাসভিত্তিক হিসাবে, জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে, মার্চ ও এপ্রিলে কেউ মারা যাননি। মে মাসে একজন এবং জুনে ১৩ জনের মৃত্যু হয়। এরপর জুলাইয়ে ৩৬ ও আগস্টে ৪৩ জন মারা যান। চলতি সেপ্টেম্বরে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৮১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর একদিনেই সর্বোচ্চ নয়জনের মৃত্যু হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা বিভাগের মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ৫৩ জন, উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন হাসপাতালে ২৩ জন এবং সিটি করপোরেশনের বাইরে ১০ জন ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। এ ছাড়া খুলনায় ৩২, ময়মনসিংহে ১৮, বরিশালে ১৩, চট্টগ্রামে ১৬, রাজশাহীতে আট, রংপুরে চার এবং সিলেটে একজনের মৃত্যু হয়েছে।

রোগী ভর্তির হিসাবেও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির চিত্র পাওয়া যাচ্ছে। চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ২৪ হাজার ৫৩৩ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আগস্টে এ সংখ্যা ছিল ২০ হাজার ৫৩৬ জন।

এর আগে জানুয়ারিতে ১ হাজার ৮১, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৯, মার্চে ৩৫৩, এপ্রিলে ৬৪০, মে মাসে ৭১৪, জুনে ২ হাজার ৯০৭ এবং জুলাইয়ে ৯ হাজার ২০৬ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৫৬ হাজার ৭০ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

একদিকে হাম ও হামের উপসর্গে শিশুদের মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে ডেঙ্গুতেও প্রতিদিন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। একই সময়ে দুই সংক্রামক রোগের বিস্তার জনস্বাস্থ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন