সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সৌদি পাইপলাইন বন্ধে বিশ্বে তেল সরবরাহে ৪% ঘাটতির আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাব ছড়িয়ে পড়তে থাকার সঙ্গে সঙ্গে ইরাক থেকে চালানো ড্রোন হামলার শিকার হয়ে সৌদি আরব তাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে।

এতে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আরও সংকটে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

লোহিত সাগরের ওই গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনটি কয়েক দিনের মধ্যে চালু করা না গেলে সৌদি আরবের রপ্তানির জন্য মজুত তেল ফুরিয়ে যেতে পারে।

এতে বিশ্বে তেল সরবরাহে ৪ শতাংশ পর্যন্ত ঘাটতি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সৌদি তেলের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা। সৌদি আরব থেকে তেল সরবরাহ আরও কমে গেলে বিশ্বে সরবরাহ সংকট আরও তীব্র হবে।

এরই মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে এবং মার্কিন বন্ডের সুদের হার ২০০৮ সালের আর্থিক সংকটের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ড্রোন হামলার কারণে গত শুক্রবার সৌদি আরব তাদের পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইন বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে। তারা এ হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানায়নি বা এই পাইপলাইন কতদিন বন্ধ থাকবে সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে যারা কথা বলেছেন তারা পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা দিয়েছেন।

কেউ বলেছেন, মেরামতে পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আবার কেউ বলেছেন, এর চেয়ে কম সময়েই মেরামত সম্ভব এবং মেরামতের কাজ চলাকালে আংশিকভাবে পাইপলাইনে তেল সরবরাহও পুনরায় চালু করা যেতে পারে।

তবে সৌদি আরব সরকারের মিডিয়া অফিস ও জ্বালানি মন্ত্রণালয় মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দেয়নি।

গত ছয় মাস ধরে, আরব উপদ্বীপের মরুভূমির মধ্য দিয়ে যাওয়া ওই পাইপলাইন সৌদি আরবকে হরমুজ প্রণালি বন্ধের যুদ্ধকালীন প্রভাব থেকে রক্ষা করেছে। আর এই হরমুজ সংকটের কারণে সৌদি আরবের প্রতিবেশী দেশগুলোর রপ্তানি বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল রপ্তানিকারক দেশ সৌদি আরব ওই পাইপলাইন ব্যবহার করে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল তেল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠিয়েছে; যা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহের প্রায় ৪ শতাংশ।

তবে পাইপলাইনটি এখন বন্ধ থাকায় ইয়ানবুতে মাত্র পাঁচ থেকে সাত দিন রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার মতো তেল মজুত রয়েছে বলে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির বিষয়ে অবগত তিন সূত্র জানিয়েছে।

চতুর্থ আরেক সূত্র বলেছে, লোহিত সাগরে মিশরের আইন সুখনা ও ভূমধ্যসাগরের সিদি কেরির বন্দর থেকে কয়েকদিন গ্রাহকদের সরবরাহ করার মতো তেল মজুত রেখেছে সৌদি আরব।

শিল্পখাতের হিসাব অনুযায়ী, ইয়ানবুর তেল মজুত সক্ষমতা প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ ব্যারেল। ওদিকে, আইন সুখনা ও সিদি কেরির মজুত সক্ষমতা যথাক্রমে ১ কোটি ৮০ লাখ ও ২ কোটি ব্যারেল।

চার সূত্র জানিয়েছে, তেলের মজুতগুলো পুরোপুরি ভর্তি নয়। বর্তমানে কয়েক দিন তেল রপ্তানি চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হলেও, পূর্ব-পশ্চিম তেল পাইপলাইনটি আবার চালু না হলে দ্রুতই এই মজুত শেষ হয়ে যাবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) গত শুক্রবার জানায়, হরমুজ প্রণালি ও লোহিত সাগর দিয়ে তেল সরবরাহ কমে যাওয়ায় অগাস্টে সৌদি আরবের তেল সরবরাহ তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গেছে।

সংস্থাটি জানিয়েছে, এ বছর বিশ্বে তেল সরবরাহ দৈনিক ৫৭ লাখ ব্যারেল বা প্রায় ৬ শতাংশ কমে যাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন