রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৩ সিটিতে একক লড়াইয়ের প্রস্তুতি জামায়াতের, সামনে আসছে মেয়র প্রার্থীদের নাম

ঢাকার উত্তরে সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণে আলোচনায় সাদিক কায়েম • গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জে প্রার্থী ঘোষণা • বগুড়ায় আব্দুল মালেককে নিয়ে প্রস্তুতি

দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠ গোছাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। স্থানীয় সংগঠনের সুপারিশ, সাংগঠনিক অবস্থান ও সম্ভাব্য নির্বাচনী সমীকরণ বিবেচনায় সিটিগুলোতে মেয়র পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম অনেকটাই নির্ধারণ করেছে দলটি। কয়েকটি সিটিতে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এলেও অন্যগুলোতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য দলীয়ভাবে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ে স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ও পরিচিত মুখের পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা, তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করার সক্ষমতা এবং সংশ্লিষ্ট নগরে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকার উত্তরে সেলিম উদ্দিন, দক্ষিণে সাদিক কায়েম

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে জামায়াতের সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা হয়েছে ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে। নগর ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে সাম্প্রতিক সময়ে নিজের রাজনৈতিক উপস্থিতি বাড়িয়েছেন তিনি।

পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ, ‘ক্লিন ঢাকা’ কর্মসূচি এবং খাল পরিষ্কারের মতো কার্যক্রমের মাধ্যমে নাগরিক সমস্যা ঘিরে সক্রিয়তা বাড়িয়েছেন সেলিম উদ্দিন। দলীয়ভাবে এ কর্মকাণ্ডকে সম্ভাব্য সিটি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

ঢাকা দক্ষিণে জামায়াতের পছন্দের তালিকায় রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি আবু সাদিক কায়েম। জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে তরুণদের মধ্যে তৈরি হওয়া তার পরিচিতিকে নির্বাচনী রাজনীতিতে কাজে লাগানোর চিন্তা রয়েছে দলটির।

বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণে তরুণ ও নতুন ভোটারদের আকৃষ্ট করতে অপেক্ষাকৃত তরুণ নেতৃত্ব সামনে আনার কৌশল থেকেই সাদিক কায়েমের নাম গুরুত্ব পাচ্ছে।

চট্টগ্রাম-বরিশালে অভিজ্ঞ নেতৃত্ব

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে অধ্যক্ষ মুহাম্মদ শামসুজ্জামান হেলালীকে সামনে রাখছে জামায়াত। তিনি নগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং সাবেক কাউন্সিলর। স্থানীয় সরকার পরিচালনার পূর্ব অভিজ্ঞতাও তার প্রার্থিতার ক্ষেত্রে বিবেচনায় রয়েছে।

বরিশালে দলের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুয়াযযম হোসাইন হেলালকে মেয়র পদে সামনে রেখে প্রস্তুতি চলছে।

খুলনায় অবশ্য এখনো দুটি নাম আলোচনায় রয়েছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং খুলনা মহানগর জামায়াতের আমির মাহফুজুর রহমান—দুজনের নামই সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছে। শেষ পর্যন্ত কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে, তা দলীয় সিদ্ধান্তে চূড়ান্ত হবে।

রংপুরে এটিএম আজম খান

রংপুর সিটি করপোরেশনে মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খানকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামনে আনা হয়েছে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগত আসন সমঝোতার কারণে তাকে প্রার্থিতা থেকে সরে দাঁড়াতে হয়েছিল। সিটি নির্বাচনে তাকে সামনে এনে সেই সাংগঠনিক অবস্থান কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে দলটির।

গাজীপুর-নারায়ণগঞ্জে প্রকাশ্য ঘোষণা

কয়েকটি সিটিতে সম্ভাব্য প্রার্থীর আলোচনা ছাড়িয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণাও দিয়েছে জামায়াত।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে ড. মুহাম্মদ হাফিজুর রহমানকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে মহানগর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ আবদুল জব্বারকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে সামনে এনেছে দলটি। গত ১৯ জুন নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান তার নাম ঘোষণা করেন।

রাজশাহী-কুমিল্লাতেও প্রার্থী নির্ধারণ

রাজশাহী সিটি করপোরেশনে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মেয়র পদে মনোনীত করেছে জামায়াত।

কুমিল্লায় মহানগর জামায়াতের আমির মোসলেহ উদ্দিনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নীতিগতভাবে চূড়ান্ত করা হয়েছে। স্থানীয় সংগঠনকে সামনে রেখে তার পক্ষে নির্বাচনী প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

সিলেট সিটি করপোরেশনে জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মাওলানা লোকমান আহমদ এবং ময়মনসিংহে মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারকে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিতে দলীয়ভাবে সংকেত দেওয়া হয়েছে।

নতুন বগুড়া সিটিতে আব্দুল মালেক

নতুন গঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনকেও বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে জামায়াত। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই সিটিতে মেয়র পদে আ.খ.ম. আব্দুল মালেককে সামনে রেখে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি।

সরকারি আজিজুল হক কলেজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আব্দুল মালেক স্থানীয়ভাবে পরিচিত রাজনৈতিক মুখ। উত্তরবঙ্গের গুরুত্বপূর্ণ নগর বগুড়ায় তার পরিচিতি ও সাংগঠনিক ভিত্তিকে কাজে লাগাতে চায় জামায়াত।

স্থানীয় নির্বাচনে শক্তি যাচাইয়ের প্রস্তুতি

১৩ সিটিতে প্রার্থী দেওয়ার এ পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে বড় পরিসরে নিজেদের সাংগঠনিক ও ভোটের শক্তি যাচাইয়ের সুযোগ পাবে জামায়াত। বিশেষ করে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ বড় নগরগুলোতে স্থানীয় নেতৃত্বের পাশাপাশি পরিচিত ও তরুণ মুখ সামনে আনার কৌশল লক্ষ করা যাচ্ছে।

তবে সব সিটিতে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চূড়ান্ত প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। কোথাও প্রার্থী প্রকাশ্যে ঘোষণা করা হয়েছে, কোথাও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে, আবার কোনো কোনো সিটিতে একাধিক নাম বিবেচনায় রয়েছে। ফলে নির্বাচনের তফসিল ও দলীয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পর প্রার্থী তালিকায় পরিবর্তনের সুযোগও থাকছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন