রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অপারেশন টেবিল পর্যন্ত গিয়েও ফিরতে হলো,অর্থসংকটে স্থগিত সাংবাদিক জেমস রানার অস্ত্রোপচার


দীর্ঘদিন ধরে পায়ের জটিল আঘাত নিয়ে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (নিটোর)-এ চিকিৎসাধীন যশোরের মনিরামপুরের সিনিয়র সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট জেমস আব্দুর রহিম রানার নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রোপচার শেষ মুহূর্তে স্থগিত হওয়ায় তিনি ও তাঁর পরিবার চরম হতাশা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।


শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) সকালে তাঁর পায়ের জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। দীর্ঘ প্রস্তুতি শেষে তাঁকে অপারেশন থিয়েটারে নেওয়া হয় এবং অপারেশন টেবিলেও তোলা হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থোপেডিক ইমপ্লান্ট ও চিকিৎসা সরঞ্জামের ব্যয় পুরোপুরি পরিশোধ করতে না পারা এবং একই সময়ে অপারেশন থিয়েটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় শেষ মুহূর্তে অস্ত্রোপচারটি স্থগিত হয়ে যায়।


পরিবার সূত্রে জানা গেছে, পায়ের ভাঙা হাড় জোড়া লাগানোর জন্য এই অস্ত্রোপচারে সার্জিক্যাল রড, প্লেট, স্ক্রু এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অর্থোপেডিক ইমপ্লান্ট ব্যবহারের কথা রয়েছে। এসব ইমপ্লান্ট ও চিকিৎসা সামগ্রীর মূল্য পরিশোধের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ পুরোপুরি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘদিনের চিকিৎসা ব্যয়, একাধিক অস্ত্রোপচার, ওষুধ ও ড্রেসিংয়ের খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারটি ইতোমধ্যে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে।


এর মধ্যে অপারেশন থিয়েটারের যন্ত্রে আকস্মিক যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিলে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করতে বিকল্প হিসেবে ভাড়া করা একটি মেশিন ব্যবহারের প্রয়োজন হয়। এ জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৫ হাজার টাকা ব্যয়ের কথা জানানো হয়। কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল রোগী ও তাঁর পরিবারের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে ওই অর্থের ব্যবস্থা করাও সম্ভব হয়নি। ফলে অস্ত্রোপচারের জন্য প্রয়োজনীয় ইমপ্লান্ট ও অন্যান্য সামগ্রীর অর্থের ঘাটতির পাশাপাশি যান্ত্রিক সমস্যার কারণে সৃষ্ট অতিরিক্ত ব্যয়—দুই দিক থেকেই জটিলতা তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত অপারেশন টেবিল পর্যন্ত যাওয়ার পরও অস্ত্রোপচারটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের ২৭ মে যশোরের কেশবপুর উপজেলার ভেরচী এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন জেমস আব্দুর রহিম রানা। দুর্ঘটনায় তাঁর ডান পায়ের হাড় একাধিক স্থানে ভেঙে যায় এবং পায়ের চামড়া ও নরম টিস্যু মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে তাঁকে ঢাকার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (নিটোর) ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তাঁর চিকিৎসা ও ধারাবাহিক অস্ত্রোপচার চলছে।


এ পর্যন্ত তাঁর সাতটি জটিল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। চিকিৎসার এই দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে গিয়ে ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। এখন ভাঙা হাড়ের চিকিৎসার পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন করতে সার্জিক্যাল রড, প্লেট, স্ক্রু ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ইমপ্লান্টসহ বিভিন্ন চিকিৎসা সামগ্রীর প্রয়োজন রয়েছে।


অস্ত্রোপচার স্থগিত হওয়ার পর জেমস আব্দুর রহিম রানা বলেন, “দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অপারেশন থিয়েটারে গিয়ে অপারেশন টেবিলে ওঠার পরও অস্ত্রোপচার সম্পন্ন না হওয়ায় আমি মানসিকভাবে ভীষণ ভেঙে পড়েছি। শারীরিক যন্ত্রণার পাশাপাশি বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত বাধার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তবুও মহান সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা রেখে নতুন করে অপেক্ষা শুরু করেছি।”
তিনি জানান, সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর সকালে পুনরায় অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এর আগে প্রয়োজনীয় অর্থ সংগ্রহ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ইমপ্লান্টের ব্যবস্থা করা জরুরি।
এদিকে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে তাঁর পরিবার আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ফলে আসন্ন অস্ত্রোপচার এবং পরবর্তী চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।


এ অবস্থায় জেমস আব্দুর রহিম রানা দেশ-বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ী, সহকর্মী, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বন্ধু-বান্ধব এবং সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের কাছে তাঁর জন্য দোয়া ও সামর্থ্য অনুযায়ী চিকিৎসা সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, “মানুষ মানুষের জন্যএই বিশ্বাস নিয়েই সবার কাছে দোয়া ও মানবিক সহযোগিতা কামনা করছি। আপনাদের সামান্য সহযোগিতাও হয়তো আমাকে আবার সুস্থ জীবনের পথে ফিরিয়ে আনতে পারে।”


বর্তমানে জেমস আব্দুর রহিম রানা জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (নিটোর)-এর গ্রীন-২ ইউনিটের ইএফ ওয়ার্ডের ২২ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন