রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পুলিশের মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদপুরের কিশোর গ্যাং, ছিনতাই নিয়ে যা বললেন এলাকাবাসী

মোহাম্মদপুরে চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাতের মধ্যে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি কমিশনার সেখানকার নাগরিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছেন।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর অপরাধ কর্মকাণ্ডের জন্য এ এলাকাটি আতঙ্ক ও আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

শনিবার বিকালে ডিএমপি কমিশনারের মতবিনিময় সভায় মোহাম্মদপুরের নাগরিকরা চুরি, ছিনতাই, কিশোর গ্যাং, মাদক ও চাঁদাবাজির উৎপাত থেকে তাদের রক্ষার আবেদন জানান।

তাদের কথা শোনার পর ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশের পাশাপাশি ‘কিশোর গ্যাং’ বলে কিছু থাকবে না বলে ঘোষণা দেন।

মোহাম্মদপুর বছিলা পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় পুলিশ কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ ছাড়াও র‌্যবের মহাপরিচালক আহসান হাবিব পলাশ উপস্থিত ছিলেন।

তাদের উপস্থিতিতে স্থানীয় নাগরিকরা ছাড়াও স্থানীয় বিএনপি, জামায়াত ইসলামীর নেতা আর মসজিদের খতিবরা মোহাম্মদপুরে সন্ত্রাসের চিত্র তুলে ধরেন।

কারা ছিনতাই করছে, কিশোর গ্যাং পরিচালনায় কারা, চাঁদাবাজি কারা করছে সবই তুলে ধরেন তারা। এমনকি থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রগুলো কার কাছে আছে, সে তথ্যও তুলে ধরা হয় মতবিনিময় সভায়।

এক তরুণ বিএনপি নেতা বলেন, “মাদক এখনো আছে। ৫ অগাস্টের পর আরও বেশি বেড়েছে। কেনাবেচা হচ্ছে প্রকাশ্যে। অলিতে গলিতে মাদক কেনাবেচা হয়। আর পুলিশ শুধু ক্রেতাদের গ্রেপ্তার করে। পরে তারা বের হয়ে মাদক কারবারি হয়ে উঠে।”

বিএনপি নেতা এনায়েত হোসেন বলেন, “থানা থেকে অস্ত্র লুট যারা করেছে তারা এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এদের ব্যাপারে তথ্য দেওয়ার পরেও কোনো কাজ হয় না।”

বছিলা বড় মসজিদের খতিব আবু তাহের বলেন, “হাউজিং এলাকাগুলোতে চাঁদাবাজি হচ্ছে। চুরিতো নিয়মিত হচ্ছেই। কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত, সেটা আছেই।”

মোহাম্মদপুর জাকির হোসেন রোডের মাঠে বহিরাগতদের উৎপাতের কারণে চলা দায় হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ ওই এলাকার এক নারী।

তিনি বলেন, “এ এলাকায় এখন নিয়মিত চুরি হচ্ছে। পুলিশ কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখে না। তবে সবাই মিলে কাজ করলে এটা দূর করা সম্ভব।”

জামায়াত নেতা রবিউল ইসলাম, বিএনপি নেতা আবুল বাশারের বক্তব্য একই। তারা মানে করেন মোহাম্মদপুরে কিশোর গ্যাং একটা বড় সমস্যা। ছিনতাই নিয়মিত হচ্ছে। আর মাদক এই এলাকায় ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।

বিএনপির এক কর্মী বলেন, “২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর বাবা (মাদক-ইয়াবা) গ্রুপ, ছিনতাই গ্রুপ, কিশোর গ্যাং গ্রুপের তৎপরতা বেড়েছে।”

স্থনীয়দের বক্তব্যের পর র‌্যাব-২ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান গত দুই মাসে তাদের তৎপরতায় কারা গ্রেপ্তার হয়েছে, কি উদ্ধার হয়েছে তার হিসাব তুলে ধরেন।

পরে র‌্যাব মহাপরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি আহসান হাবিব পলাশ সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, “শুধু পুলিশ বা র‌্যাব না সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। সকলের সহযোগিতায় মাদক-সন্ত্রাস দূর করা সম্ভব।”

‘ভয় পাবেন না’ বলে অনুষ্টানে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন এবং লুন্ঠিত অস্ত্র উদ্ধারে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

স্থানীয়দের বক্তব্যের সূত্র ধরে পুলিশ কমিশনার বলেন, “আমি আপনাদের বক্তব্যে তিনটি বিষয়কে চিহ্নিত করেছি। কিশোর গ্যাং, মাদক ও ছিনতাই। এসব সমস্যা সমাধানে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

তবে তিনি অপরাধের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, আগের চেয়ে মোহাম্মদপুরে আইনশৃঙ্খলা এখন অনেক ‘উন্নত’ হয়েছে। আপনাদের সহযোগিতা পেলে ধীরে ধীরে আরও উন্নত হবে।”

তবে সব সময় পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করা ঠিক না বলেও মন্তব্য করে মোসলেহ উদ্দিন বলেন, এসব অপরাধে সবসময় জিরো টলারেন্স। কিন্তু এখনই এটা স্থায়ীভাবে দূর করা সম্ভব নয়। সহযোগিতা পেলে পর্যায়ক্রমে লক্ষ্যে পৌঁছানো যাবে।”

তিনি রিকশার গ্যারেজসহ বিভিন্ন স্পটে অভিযান জোরদার করার নির্দেশ দিয়ে বলেন,“ যত পুলিশ লাগে তা দেওয়া হবে। কিশোর গ্যাং’এর অস্থিত্ব থাকবে না। শব্দটা থাকবে না। র‌্যাব পুলিশ যৌথ অভিযান চালাবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন