রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘স্থগিত’ স্কোয়াশ ফেডারেশন, এরপরও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) আদেশে স্থগিত করা হয়েছে বাংলাদেশ স্কোয়াশ র‌্যাকেটস ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটি। অথচ স্থগিতের আদেশ জারির মাত্র কয়েক দিন পরই আন্তর্জাতিক স্কোয়াশ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে ফেডারেশনটি। গত ১৯ আগস্ট কমিটি স্থগিতের আদেশ দেওয়া হলেও ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক এই টুর্নামেন্ট। বিষয়টি নিয়ে ক্রীড়াঙ্গনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

অলিম্পিকে অন্তর্ভুক্ত মর্যাদাপূর্ণ ডিসিপ্লিন স্কোয়াশ বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরেই নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। কোর্ট সংকটসহ অবকাঠামোগত নানা সমস্যার কারণে খেলাটির বিকাশও কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি। এর মধ্যেই হঠাৎ ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির কার্যক্রম স্থগিতের সিদ্ধান্ত নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান গত ১৯ আগস্ট স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে স্কোয়াশ ফেডারেশনের বিদ্যমান অ্যাডহক কমিটি স্থগিত করেন। আদেশে বলা হয়, ফেডারেশনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে না পারায় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানা গেছে।

তবে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচন আয়োজন করতে না পারার কারণে কেবল স্কোয়াশ ফেডারেশনের কমিটির কার্যক্রম কেন স্থগিত করা হলো। কারণ ফুটবল ও ক্রিকেট ছাড়া দেশের অধিকাংশ ক্রীড়া ফেডারেশনই বর্তমানে অ্যাডহক কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে ২৭টি ফেডারেশনের আগের অ্যাডহক কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠন করেছে বর্তমান সরকার। অন্য ফেডারেশন ও অ্যাসোসিয়েশনগুলোর কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

হঠাৎ স্কোয়াশ ফেডারেশনের কমিটি স্থগিতের কারণ জানতে চাইলে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক দৌলতুজ্জামান বলেন, ‘২৭টি ফেডারেশনে অ্যাডহক কমিটি হয়েছে। স্কোয়াশ ফেডারেশনের কমিটি স্থগিত করা হয়েছে, এটির অ্যাডহক কমিটি প্রক্রিয়াধীন আছে।’

তবে তার বক্তব্যে কেবল স্কোয়াশ ফেডারেশনের কমিটি স্থগিতের সুনির্দিষ্ট কারণ স্পষ্ট হয়নি। অবশ্য এনএসসির নির্বাহী পরিচালকের স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চেয়ারম্যানের (যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী) নির্দেশনায় কমিটির কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

এদিকে কমিটি স্থগিতের আদেশের পরও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট আয়োজন করেছে স্কোয়াশ ফেডারেশন। গত ২৪ থেকে ২৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত হয় আন্তর্জাতিক ওই প্রতিযোগিতা। কমিটি স্থগিত থাকার পর কীভাবে টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হলো—এমন প্রশ্নের জবাবে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কামরুল ইসলাম (অব.) বলেন, ‘জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ ফেডারেশনের কমিটি সংক্রান্ত নির্দেশনা দেওয়ার এখতিয়ার রাখে। তারাই মূল অভিভাবক। তারা খেলাধুলার জন্য যেটা ভালো মনে করবে করতে পারে। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের জন্য সব কিছু প্রস্তুত ছিল, তাই ওই টুর্নামেন্ট করেই আমরা কমিটির কর্মকাণ্ড স্থগিত করেছি।’

ফেডারেশনটির কার্যক্রম স্থগিতের বিষয়টি তাই ক্রীড়াঙ্গনে ভিন্ন প্রশ্নও সামনে এনেছে। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সব ফেডারেশনের অভিভাবক হলেও একেক ফেডারেশনের ক্ষেত্রে ভিন্ন ধরনের সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হচ্ছে—এমন প্রশ্ন উঠছে সংশ্লিষ্ট মহলে।

এরই মধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অ্যাডহক কমিটি ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করেছে। বোর্ডের অধীন জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোও অ্যাডহক কমিটি থেকে কাউন্সিলর মনোনয়ন করেছে। ক্রিকেট বোর্ডে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্ভব হলে অন্য ফেডারেশনগুলোর ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা যায় কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে।

অন্যদিকে, অন্যান্য ফেডারেশনকে সরাসরি ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হলেও জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচন শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্কোয়াশ ফেডারেশনের নির্বাচন আয়োজন করতে না পারার কারণে কমিটি স্থগিতের সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

সবচেয়ে বড় শঙ্কা, একটি ফেডারেশনের কার্যক্রম স্থগিত থাকলে সংশ্লিষ্ট খেলাটির নিয়মিত কার্যক্রম, জাতীয় দল, আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণ ও খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে কোর্ট ও অবকাঠামোগত সংকটে থাকা স্কোয়াশের মতো খেলায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে এমন স্থবিরতা কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটিই এখন সংশ্লিষ্টদের ভাবনার বিষয়।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন