নানামুখী চ্যালেঞ্জে সরকার, সামনে ১০ বড় পরীক্ষা
- নিজস্ব প্রতিবেদক
- ১০ ঘণ্টা আগে
দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরে আসে বিএনপি। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করা হয়। ক্ষমতায় ফেরার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও সরকারকে একসঙ্গে সামলাতে হচ্ছে অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি, আইনশৃঙ্খলা, প্রশাসনিক সংস্কার, দলীয় শৃঙ্খলা, রাজনৈতিক বিরোধ এবং কূটনৈতিক নানা সমীকরণ।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের সময়সীমা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। দায়িত্ব গ্রহণের শুরুতেই দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ-জ্বালানি সরবরাহকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল। এখন এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ফলাফল দেখানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলা ও জনআস্থা ধরে রাখাই সরকারের অন্যতম বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের সামনে থাকা সংকটগুলো পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জ্বালানি সংকট শিল্প ও পরিবহন ব্যয় বাড়ায়, বাড়তি ব্যয় মূল্যস্ফীতিতে চাপ সৃষ্টি করে। আবার মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়লে সরকারের প্রতি অসন্তোষও বাড়তে পারে। আইনশৃঙ্খলার অবনতি হলে বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ফলে একটি সংকট মোকাবিলায় ব্যর্থতা অন্য সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ, ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত থাকতে পারে। তবে সেগুলো মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এখন দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখা।
অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের অপর্যাপ্ত গ্যাস অনুসন্ধান ও আমদানিনির্ভরতার কারণে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট থেকে দেশকে বের করে আনতে সরকার সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
জ্বালানি সংকট
সরকারের সামনে সবচেয়ে দৃশ্যমান চ্যালেঞ্জগুলোর একটি জ্বালানি নিরাপত্তা। গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে বড় ব্যবধান, এলএনজি আমদানির ওপর নির্ভরতা এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলেছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি সংকটের প্রভাব শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনে সীমাবদ্ধ থাকে না। গ্যাসের ঘাটতির কারণে শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হলে কর্মসংস্থান ও বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। একই সঙ্গে পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়লে তার প্রভাব পড়ে পণ্যের বাজারদরেও।
সরকার ইতোমধ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, নতুন কূপ খনন, সিসমিক জরিপ, বাপেক্সের সক্ষমতা বৃদ্ধি, পিএসসি ও বিডিংয়ের মাধ্যমে অনুসন্ধান এবং এলএনজি অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নিয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে। ফলে স্বল্পমেয়াদে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাসের উৎস বাড়ানো—দুই দিকই একসঙ্গে সামলাতে হবে সরকারকে।
দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি
সাধারণ মানুষের কাছে সরকারের সাফল্যের সবচেয়ে দৃশ্যমান মাপকাঠি হতে পারে বাজারদর। মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা কমলেও বাজারে পণ্যের দাম আগের উচ্চ অবস্থান থেকে পুরোপুরি কমেনি। ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ এখনও রয়েছে।
সাম্প্রতিক হিসাবে জুলাইয়ে সাধারণ মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে নেমেছে, যা জুনে ছিল ৯ দশমিক ১৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও ৮ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ১৬ শতাংশ হয়েছে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, মূল্যস্ফীতির হার কমে যাওয়া এবং পণ্যের দাম কমে যাওয়া এক বিষয় নয়। কয়েক বছর ধরে পণ্যের যে উচ্চমূল্য তৈরি হয়েছে, তার বড় অংশ এখনও বাজারে বিদ্যমান। ফলে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, মজুতদারি ও কৃত্রিম সংকট ঠেকানো, পরিবহন ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং বাজার তদারকি সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পে-স্কেল নিয়ে অর্থনৈতিক চাপ
সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নও সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার জন্য বড় পরীক্ষা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সরকারি কর্মচারীদের আয় বাড়লে তাদের ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে। তবে এর সঙ্গে মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য প্রভাব, সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় এবং বেসরকারি খাতের কর্মীদের আয়-ব্যয়ের বৈষম্য নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) ভাইস প্রেসিডেন্ট নাজের হোসাইন বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হলেও বেসরকারি খাতের বিপুলসংখ্যক কর্মীর আয় একই হারে না বাড়লে তাদের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ তৈরি হবে। এতে সামাজিক বৈষম্য ও অসন্তোষ বাড়তে পারে।
সরকারকে তাই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বেসরকারি খাতের আয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা ও দলীয় শৃঙ্খলা
ক্ষমতায় আসার পর আইনশৃঙ্খলার উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ দাবি করেছেন, গত ছয় মাসে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে এবং মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও গতিশীল করা হচ্ছে।
তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দখল, চাঁদাবাজি, সংঘাত বা অপরাধের অভিযোগ উঠলে সরকারের জন্য তা বড় পরীক্ষায় পরিণত হয়। কারণ সরকারকে একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে হয়।
বিএনপির পক্ষ থেকে অবশ্য বলা হচ্ছে, অপরাধের সঙ্গে জড়িত হলে দলীয় পরিচয় কাউকে ছাড় দেবে না। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, দল ও সরকার একাকার হয়ে গেছে—এ কথা ঠিক নয়। সরকার পরিচালনা করছেন দলের নেতারা, কিন্তু দল তার নিজস্ব জায়গায় রয়েছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণ
রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়াও সরকারের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সড়কের শৃঙ্খলা, যানজট ও দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি এই পরিবহনের সঙ্গে যুক্ত বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হঠাৎ উচ্ছেদ বা নিষেধাজ্ঞা দিয়ে সমস্যার সমাধান করা কঠিন। নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট, গতিসীমা এবং কোন সড়কে চলাচল করবে—এসব বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিকল্প কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে।
প্রশাসনিক সংস্কার ও সুশাসন
সরকারের আরেকটি বড় পরীক্ষা প্রশাসনিক সংস্কার। দীর্ঘদিনের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, দুর্নীতি, সিদ্ধান্ত গ্রহণে ধীরগতি এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি দূর করা সহজ নয়।
সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের মতে, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বিএনপিকে আরও ভালো করতে হবে। রাজনৈতিক দলের ভেতরে গণতান্ত্রিক চর্চা না থাকলে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা কঠিন। দীর্ঘ সময় পর ক্ষমতায় ফিরে বিএনপির সামনে মানুষের দৈনন্দিন সমস্যার সমাধান, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন এবং অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা বড় চ্যালেঞ্জ।
অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও রাজস্ব
দেশের অর্থনীতিতে কিছু ইতিবাচক সূচক থাকলেও সরকারের সামনে বড় আর্থিক ব্যবস্থাপনার পরীক্ষা রয়েছে। জুলাই ২০২৬ শেষে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ৪২ বিলিয়ন ডলার; আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিপিএম৬ পদ্ধতিতে তা ৩১ দশমিক ৬০ বিলিয়ন ডলার।
প্রবাসী আয়েও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি রয়েছে। আগস্টের প্রথম ৩০ দিনে প্রবাসীরা প্রায় ২ দশমিক ৮৩ বিলিয়ন ডলার পাঠিয়েছেন। জুলাই ও আগস্ট মিলিয়ে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৫ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
রপ্তানিতেও ইতিবাচক প্রবণতা রয়েছে। আগস্টে পণ্য রপ্তানি হয়েছে প্রায় ৪ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার, যা আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ১৪ শতাংশ বেশি।
তবে এই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার পাশাপাশি সরকারকে আমদানি ব্যয়, বৈদেশিক ঋণের কিস্তি, জ্বালানি আমদানি এবং বিনিয়োগের গতি সামলাতে হবে। একই সঙ্গে রাজস্ব আদায় বাড়ানোও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও আওয়ামী লীগ প্রশ্ন
সরকারের সামনে রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর আরেকটি বিষয় আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা। দলটির কার্যক্রম সীমিত বা নিষিদ্ধ থাকার পরিস্থিতিতে তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা, রাজনৈতিক অধিকার এবং ভবিষ্যৎ ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ক্ষেত্রে সরকারকে রাজনৈতিক আবেগের পরিবর্তে আইন, বিচারপ্রক্রিয়া, জাতীয় নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অধিকারের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে।
শেখ হাসিনার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থানও এ প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ। তার দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা থাকলেও বিষয়টি শুধু একজন ব্যক্তিকে ঘিরে নয়; এর সঙ্গে বিচারপ্রক্রিয়া, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ, আইনশৃঙ্খলা এবং বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বিষয়ও যুক্ত।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক
বাংলাদেশের জন্য প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পরীক্ষা। সীমান্ত, পানি, বাণিজ্য, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও নিরাপত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের গভীর আন্তঃনির্ভরতা রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতের রাজনৈতিক সমীকরণকে পাশ কাটিয়ে রাষ্ট্রীয় স্বার্থকে সামনে রেখে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে সীমান্ত, পানি ও বাণিজ্যসহ দ্বিপক্ষীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে কার্যকর কূটনৈতিক সমঝোতা গড়ে তোলা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক
যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করাও সরকারের সামনে গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ ও চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বাণিজ্য, বিনিয়োগ, বিমান চলাচল ও কৌশলগত সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন সুযোগ কাজে লাগানোর পাশাপাশি দেশের স্বার্থ নিশ্চিত করাও জরুরি।
বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ধরে রাখতে হলে মানবাধিকার, আইনের শাসন, সংখ্যালঘু ও সাংস্কৃতিক নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে হবে।
জনআস্থা ধরে রাখাই মূল পরীক্ষা
সবশেষে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ জনআস্থা ধরে রাখা। দীর্ঘ সময় ক্ষমতার বাইরে থাকার পর বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। ফলে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি কতটা দ্রুত বাস্তবায়ন হচ্ছে, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় তার প্রভাব কতটা পড়ছে এবং প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলায় কতটা পরিবর্তন আসছে—এসবের ভিত্তিতেই সরকারের কার্যক্রম মূল্যায়ন করবেন জনগণ।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর ভাষায়, দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূলতা ও আন্দোলন-সংগ্রামের পর জনগণের ভোটে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে। এখন জনগণের আস্থা ও জনপ্রিয়তা ধরে রাখাই দল ও সরকারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারের সামনে থাকা ১০টি বড় চ্যালেঞ্জ তাই আলাদা কোনো বিষয় নয়। জ্বালানি নিরাপত্তা থেকে দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা থেকে দলীয় শৃঙ্খলা, অর্থনীতি থেকে প্রশাসনিক সংস্কার, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি থেকে কূটনীতি—সবকিছুই পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত। এসব ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখাতে পারলেই সরকার তার প্রথম পর্যায়ের কর্মপরিকল্পনার বাস্তব সাফল্য প্রমাণ করতে পারবে।
এই বিভাগের আরও খবর
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা দ্রুত নিরসনের আশা পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার দ্রুত নিরসনের ব্যাপারে বাংলাদেশের দৃঢ়…
এআইয়ের অপব্যবহার যাতে না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে: আইনমন্ত্রী
আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) যাতে অপব্যবহার না হয় সেদিকে…
বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকটে কারখানা বন্ধের প্রতিবেদন নাকচ প্রধানমন্ত্রীর
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের কারণে…
ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে আর্থিক প্রণোদনাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে…
রোববার দুই দিনের সফরে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আগামী ৬ সেপ্টেম্বর…
সর্বশেষ খবর
2.
3.
নানামুখী চ্যালেঞ্জে সরকার, সামনে ১০ বড় পরীক্ষা
- ১০ ঘণ্টা আগে
4.
5.
জ্বালানি সংকট কাটাতে পাঁচ দফা পরিকল্পনা সরকারের
- ১১ ঘণ্টা আগে
জনপ্রিয় বিভাগ সমূহ
আরও পড়ুন
নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১৪, নিখোঁজ ৩৯১৬
চীন-নেপাল সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় নেপালে অন্তত ১ হাজার ১১৪ জন নিহত এবং ৩ হাজার ৯১৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্যোগ কর্তৃপক্ষ…
আন্দোলনে শিক্ষক-কৃষকদের ওপর করা মামলা প্রত্যাহার করছেন বিজয়
ভারতের তামিলনাড়ুর বিগত সরকারের আমলে শান্তিপূণ আন্দোলন করা কৃষক ও শিক্ষকদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে টিভিকে সরকার। …
এপেক সম্মেলনের ফাঁকে বৈঠকে বসতে পারেন ট্রাম্প-পুতিন-শি
আগামী নভেম্বরে চীনে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক কো-অপারেশন (এপেক) সম্মেলনের ফাঁকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং…
সব প্রশ্নই সরকারি দলের: প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব নিয়ে নাহিদ ইসলামের প্রশ্ন
জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত তারকাচিহ্নিত আটটি প্রশ্নের সবগুলোই সরকারি দলের সংসদ সদস্যদের হওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে বিরোধী দল। বিরোধী দলের…
বিএনপি কোনো ‘বট বাহিনী’ চালায় না: তথ্য প্রতিমন্ত্রী
তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কোনো বট বাহিনী পরিচালনা করে না। এ কারণে…
তনু হত্যা: সাবেক ২ সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান (তনু) হত্যায় সন্দেহভাজন সাবেক সেনা সদস্য সার্জেন্ট মো. জাহিদুজ্জামান (৪৮) ও সাবেক সৈনিক…
ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে মিলবে প্রণোদনা, গ্রিডে ইউনিটপ্রতি ১০.৫০ টাকা
টেকসই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাটারিসহ ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে বিশেষ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে সরকার। নতুন…
খুলে দেওয়া হলো আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন
ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের আওতায় ধউর মোড় থেকে আশুলিয়া পর্যন্ত নির্মিত দুটি সার্ভিস সেতু যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে।…

