রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬

সাংস্কৃতিক আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের ক্ষমতা জনগণের আছে: রিজভী

ভাষার মূল রূপ বদলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের; প্রতিরোধের ক্ষমতা জনগণের মধ্যে রয়েছে বলে মন্তব্য

বাংলাদেশে পরিকল্পিতভাবে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন চালানো হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, সাম্রাজ্যবাদী শক্তির চক্রান্তের মাধ্যমে ভাষার মূল রূপ বদলে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে যত চক্রান্তই হোক না কেন, এ দেশের মানুষের মধ্যে যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলার ক্ষমতা রয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সেমিনার হলে ‘বাংলাদেশের সংস্কৃতির সংকট: স্বরূপ সন্ধান’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্য এ সেমিনারের আয়োজন করে।

ভাষার শব্দ বদলের চেষ্টা হচ্ছে

রিজভী বলেন, ভাষা ও সংস্কৃতির মধ্যে পরিকল্পিতভাবে কিছু নতুন শব্দ ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে চর্চিত ও ব্যবহৃত শব্দ বাদ দিয়ে নতুন নতুন রূপ চাপিয়ে দেওয়াকে তিনি সাম্রাজ্যবাদী তৎপরতার অংশ বলে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, “খুন, রক্ত কিংবা লাশের মতো সুপ্রতিষ্ঠিত শব্দগুলোর বদলে অন্য শব্দ বসানোর সূক্ষ্ম চেষ্টা আমরা দেখতে পাচ্ছি। কিন্তু এই জাতির সংগ্রামের ইতিহাস আছে, ভাষার জন্য রক্ত দেওয়ার ইতিহাস আছে। ফলে যেকোনো সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিহত করার এক অদৃশ্য অভ্যন্তরীণ ক্ষমতা এই জনগোষ্ঠীর রক্তে রয়েছে।”

বেঙ্গল রেনেসাঁ নিয়ে মন্তব্য

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও জাতীয়তাবাদের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, উনিশ শতকের তথাকথিত ‘বেঙ্গল রেনেসাঁ’ সামগ্রিক অর্থে পূর্ণাঙ্গ কোনো রেনেসাঁ ছিল না। তাঁর মতে, এটি মূলত হিন্দু পুনরুত্থানবাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এতে তৎকালীন সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম কৃষক সমাজের শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারের বিষয়টি উপেক্ষিত থেকে যায়।

রিজভী বলেন, ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ এবং ১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে এ দেশের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক আত্মপরিচয় বা ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ গড়ে উঠেছে।

বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা

বুদ্ধিজীবী সমাজের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ইতিহাসের প্রতিটি সংকটকালে একশ্রেণির বুদ্ধিজীবী ফ্যাসিবাদের তোষামোদি করেছেন। অতীতে হিটলারের পেছনে যেমন অনেক নামজাদা বুদ্ধিজীবী লাইন ধরেছিলেন, বাংলাদেশেও ফ্যাসিবাদের সময়ে তেমনটি দেখা গেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাঁর অভিযোগ, এসব বুদ্ধিজীবী নিখোঁজ, গুম কিংবা ভোটাধিকার হরণের বিরুদ্ধে কথা বলেননি। অন্যদিকে দেশপ্রেমিক বুদ্ধিজীবীরা সব সময় মাটির মানুষের পাশে থাকেন এবং সত্য কথা বলেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সেমিনারে আরও যারা বক্তব্য দেন

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক ঐক্যের সভাপতি ও বিএনপির প্রান্তিক জনগোষ্ঠী উন্নয়নবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ মালেকের সভাপতিত্বে সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়। সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও গবেষক জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মুস্তফা মজিদ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন