অনুসরণ করুন:
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

স্তন ক্যান্সার শনাক্তে তৃণমূল পর্যায়ে স্ক্রিনিং সম্প্রসারণের পরিকল্পনা

নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ, প্রশিক্ষণ এবং স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো উন্নয়নে জোর

তৃণমূল পর্যায়ে স্তন ক্যান্সার স্ক্রিনিং কার্যক্রম শুরু করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোগত উন্নয়ন, নতুন চিকিৎসক ও মিডওয়াইফ নিয়োগ এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

রোববার রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার সচেতনতা মাস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, নারীদের মধ্যে স্তন ক্যান্সার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং আক্রান্তদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।

শহর থেকে গ্রাম—সবখানে সচেতনতা জরুরি

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশে স্তন ক্যান্সারের প্রকোপ বাড়ছে। শুধু শহরাঞ্চল নয়, গ্রামাঞ্চলেও অনেক নারী এ রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। সচেতনতার অভাব এবং চিকিৎসাসেবা পেতে দেরি হওয়ায় অনেক নারী সময়মতো রোগ শনাক্ত করতে পারেন না। ফলে তাঁদের অনেকে যথাযথ চিকিৎসার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন।

তিনি বলেন, শুধু সভা-সেমিনার আয়োজন কিংবা টেলিভিশনে প্রচারের মাধ্যমে প্রকৃত সচেতনতা তৈরি সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

চিকিৎসকদের উদ্দেশে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘আপনারা দেশের সবচেয়ে মেধাবী সন্তান। বছরে অন্তত দুই-তিন দিন নিজের গ্রামে ফিরে যান। স্থানীয় নারীদের একত্র করে স্তন ক্যান্সারের প্রাথমিক লক্ষণ এবং কীভাবে স্তন সম্পর্কে সচেতন থাকতে হয়, তা শেখান। এটি মানবতার সেবা ও মহৎ কাজ।’

অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় প্রাথমিক শনাক্তকরণ জরুরি

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার বলেন, একসময় দেশে সংক্রামক ব্যাধিতে ব্যাপক প্রাণহানি ঘটলেও বর্তমানে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ থেকে ৭৩ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ।

তিনি বলেন, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের মতো রোগ মোকাবিলায় প্রতিরোধ, প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্তকরণ এবং সময়মতো চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।

স্ক্রিনিংয়ের বাইরে অধিকাংশ আক্রান্ত নারী

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, দেশে প্রতি এক লাখ নারীর মধ্যে ১৫ জনের স্তন ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আক্রান্ত নারীদের প্রায় ৬৩ শতাংশ কোনো ধরনের স্ক্রিনিংয়ের আওতায় আসেন না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে রোগটি দেরিতে শনাক্ত হয়, যা চিকিৎসাকে জটিল করে তোলে।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্ক্রিনিং কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. নাছির উদ্দীন।

এ সময় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) মহাসচিব ডা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেনসহ স্বাস্থ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন