অনুসরণ করুন:
সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

সাবেক বিমানবাহিনী প্রধানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগ, কাতারে গ্রেপ্তার

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগ; দেশে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দুদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় কাতারে গ্রেপ্তার হয়েছেন সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আব্দুল হান্নান। গত ১৫ অক্টোবর তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে দুদক।

দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান রোববার কমিশনের নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, শেখ আব্দুল হান্নানের গ্রেপ্তারের বিষয়ে দুদক গতকাল অনানুষ্ঠানিকভাবে এবং আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ইন্টারপোলের মাধ্যমে জানতে পেরেছে। বাংলাদেশ পুলিশের সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর (এনসিবি) মাধ্যমে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ ও অর্থ পাচারের অভিযোগ

দুদক সচিব জানান, শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে ৩ কোটি ২৮ লাখ ৫১ হাজার ৫০৬ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে ১৪ কোটি ৮ লাখ ৫৭ হাজার ১৪৫ টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই দুদকের ঢাকা-১ কার্যালয়ে মামলা দায়ের করা হয়।

অনুসন্ধান থেকে মামলার তদন্ত

দুদক জানায়, ২০২৫ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের স্মারকের ভিত্তিতে শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের জন্য তিন সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়। ক্ষমতার অপব্যবহার, রাষ্ট্রীয় অর্থের ক্ষতিসাধন, ঘুষ গ্রহণ, নিয়োগ বাণিজ্য, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় দলটিকে।

দুদকের উপপরিচালক তানজির হাসিব সরকারকে দলনেতা করে গঠিত ওই দল অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করে। পরে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয় দুদকের সহকারী পরিচালক মাহমুদুল হাসানকে।

তদন্তের অংশ হিসেবে শেখ আব্দুল হান্নানের কাতার, কানাডাসহ বিভিন্ন দেশে থাকা সম্পদের তথ্য চেয়ে ২০২৬ সালের ২৩ মে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে এবং ২১ জুন বাংলাদেশ পুলিশের এনসিবির এআইজির কাছে চিঠি পাঠানো হয়।

সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ, নিয়োগ রিসিভার

দুদক সচিব বলেন, কমিশনের অনুমোদনক্রমে আদালতের আদেশে শেখ আব্দুল হান্নান ও তাঁর স্ত্রীর নামে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এসব সম্পদের দেখভালের জন্য রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা জারির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি।

দেশে ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ

শেখ আব্দুল হান্নানকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দুদক সচিব বলেন, প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহে কমিশন সব ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও দুদক সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের কাছে যেসব তথ্য চাওয়া হচ্ছে, সেগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। কাতারের দোহা, সুইজারল্যান্ডসহ বিভিন্ন স্থানে থাকা সংশ্লিষ্ট কার্যালয়গুলোর মাধ্যমে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে অদূর ভবিষ্যতে ইতিবাচক খবর পাওয়া যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন দুদক সচিব।

তিনি জানান, শেখ আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন