দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের উদ্যোগ, মণ্ডপে পাহারা ও পূজা কমিটির সঙ্গে যোগাযোগের নির্দেশ
দেশে ও বিদেশে বসে একটি চক্র সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্র করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, ষড়যন্ত্রের সব প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে এবারের দুর্গাপূজায় নিরাপত্তাবলয় গড়ে তুলতে সরকার সার্বিক উদ্যোগ নিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বেগম হাসিবা উচ্চবিদ্যালয়ের ২৯তম বার্ষিক পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, একটি চক্র দেশে ও বিদেশে বসে সরকার ও দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তবে এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করতে সরকার দুর্গাপূজায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় নেতা-কর্মীদের নির্দেশনা
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী স্থানীয় প্রশাসনকে বারবার নির্দেশনা দিয়েছেন। পাশাপাশি দলের পক্ষ থেকে জাতীয় কমিটি গঠন করে পূজা উদ্যাপন কমিটির সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের নেতা-কর্মীদের পূজামণ্ডপ কমিটির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে, পাহারার ব্যবস্থা করতে এবং ধর্মীয় উৎসবের ভাবগাম্ভীর্য অক্ষুণ্ন রাখতে বলা হয়েছে।
নবাবগঞ্জ এলাকার ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, এ এলাকায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বসবাস বেশি। এখানকার সংসদ সদস্য খন্দকার আবু আশফাক এর আগেও কয়েকবার উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। হিন্দু, মুসলমান ও খ্রিষ্টান—সব ধর্মের মানুষের কাছে তিনি অত্যন্ত প্রিয় বলে মন্তব্য করেন রিজভী।
তিনি আরও বলেন, বহুবার এ এলাকায় এসে তিনি দেখেছেন, এলাকার মানুষের সুখ-দুঃখ ও আনন্দ-বেদনার সঙ্গে খন্দকার আবু আশফাক নিজেকে সম্পৃক্ত রাখেন। আসন্ন দুর্গাপূজা নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল করতে তিনি সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন রিজভী।
শিক্ষার প্রসারে অবদান রাখায় প্রশংসা
বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে শিক্ষার বিকল্প নেই। ন্যূনতম শিক্ষা অর্জন করতে না পারলে মানুষ বঞ্চনা ও প্রতারণার শিকার হতে পারে। সর্বজনীন শিক্ষা মানুষের জন্মগত অধিকার।
তিনি বলেন, শিক্ষার প্রসারে যাঁরা কাজ করেন, তাঁরা মহৎ কাজ করেন। বেগম হাসিবা উচ্চবিদ্যালয়ে এসে এর বিস্তৃত মাঠ দেখে তাঁর কাছে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নিজ এলাকার উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার সামছুল আলম পোখরাজের প্রশংসা করে রিজভী বলেন, অনেকে পেশাগত জীবনে অবদান রাখলেও নিজের এলাকাকে ভুলে যান। তবে যাঁরা এলাকার উন্নয়নে পাশে থাকেন, তাঁদের সম্মান জানানো উচিত।
শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে রিজভী বলেন, জীবনকে অর্থবহ করতে শিক্ষা গ্রহণ অপরিহার্য। পাশাপাশি খেলাধুলা ও শরীরচর্চা শরীর গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখে। সুস্থ জীবনের বিকাশ ঘটাতে শিক্ষার্থীদের সুস্থ বিনোদন ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।

