সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের সহায়তায় নতুন অধিদপ্তর গঠনের উদ্যোগ

গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের কল্যাণ ও পুনর্বাসনে আলাদা একটি অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রস্তাবিত অধিদপ্তরের মাধ্যমে ভুক্তভোগীদের চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় এ উদ্যোগ নিয়ে নীতিগত আলোচনা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান সভায় সভাপতিত্ব করেন। প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এতে অংশ নেন।

ভুক্তভোগীদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির উদ্যোগ

সভায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্তদের স্বীকৃতি ও সহায়তার জন্য যেভাবে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান অধিদপ্তর’ গঠন করা হয়েছে, একইভাবে দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে গুম, হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন ও মিথ্যা মামলার শিকার ব্যক্তিদের অবদানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিতে চায় সরকার।

তার ভাষ্য, শুধু ভুক্তভোগীদের সহায়তা নয়, ভবিষ্যতে যেন রাষ্ট্রীয় বা রাজনৈতিক ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ এবং গুম-খুন ও নির্যাতনের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে লক্ষ্যে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

চিকিৎসা, আইনি সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের পরিকল্পনা

প্রস্তাবিত অধিদপ্তরের কার্যপরিধির মধ্যে গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের কল্যাণ ও পুনর্বাসনের বিষয় রাখার প্রস্তাব এসেছে। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসাসেবা ও আইনি সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।

ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের অধিকার এবং ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে পৃথক আইনি কাঠামো তৈরির প্রয়োজনীয়তা নিয়েও সভায় আলোচনা হয়।

এ জন্য নতুন আইন প্রণয়নের পাশাপাশি সরকারের বিদ্যমান ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর ‘শিডিউল-১ (অ্যালোকেশন অব বিজনেস)’ সংশোধনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক নীতিমালা অনুসরণের আলোচনা

ভুক্তভোগীদের প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের কাঠামো নির্ধারণে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নীতিমালা বিবেচনায় নেওয়ার বিষয়ও সভায় উঠে আসে।

বিশেষ করে জাতিসংঘের ভুক্তভোগীদের প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণের অধিকারসংক্রান্ত ‘রাইট টু আ রেমেডি অ্যান্ড রিপারেশন’ নীতিমালা এবং বাংলাদেশের সংবিধানের আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা মতামত দেন।

এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের জন্য রাষ্ট্রীয় সহায়তার একটি সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা তৈরির বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে।

‘রাষ্ট্রের দায়িত্ব রয়েছে’

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন সভায় বলেন, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম লক্ষ্য ছিল মানুষের স্বাধীনভাবে বেঁচে থাকার অধিকার, মানবাধিকারের সুরক্ষা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।

তার মতে, এসব আদর্শ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, গুম বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কিংবা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাদের এবং তাদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব রাষ্ট্রের রয়েছে।

আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, স্বরাষ্ট্র, অর্থ, আইন ও বিচার, সমাজকল্যাণ ও স্বাস্থ্যসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

নতুন অধিদপ্তরের সাংগঠনিক কাঠামো, কার্যপরিধি, ভুক্তভোগী নির্ধারণের প্রক্রিয়া এবং সহায়তা ও ক্ষতিপূরণের পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন