অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যালয়ের শৌচাগারে পাঁচ ঘণ্টা হাত-পা-মুখ বাঁধা, গোঙানি শুনে ছাত্রীকে উদ্ধার

খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় বিদ্যালয় ছুটির প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর শৌচাগার থেকে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনে কর্মরত নির্মাণশ্রমিকেরা তালা ভেঙে তাকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

শুক্রবার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই ছাত্রী সাংবাদিকদের জানায়, বৃহস্পতিবার বেলা দুইটার দিকে ক্লাস শেষে পরীক্ষা-সংক্রান্ত একটি বিষয়ে শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সে। বিদ্যালয় ছুটির পর সাধারণত একজন শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়লেও ওই দিন তার পড়া ছিল না।

ছাত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়ি ফেরার আগে শৌচাগারের দিকে গেলে সেখানে প্রবেশের আগমুহূর্তে পেছন থেকে কেউ তাকে আঘাত করে। সে চিৎকারের চেষ্টা করলে মুখ চেপে ধরে নাকে কোনো ধরনের পদার্থ স্প্রে করা হয়। এরপর সে আংশিক অচেতন হয়ে পড়ে।

ছাত্রীটি আরও জানায়, পুরোপুরি জ্ঞান হারায়নি সে। ওই অবস্থায় কেউ একজন ব্লেডজাতীয় কিছু দিয়ে তার হাতে আঘাত করছিল বলে অনুভব করে। হামলাকারীদের আচরণ দেখে তাদের নেশাগ্রস্ত বলে মনে হয়েছে তার।

পরে জ্ঞান কিছুটা স্বাভাবিক হলে সে বুঝতে পারে, তার হাত-পা ও মুখ বাঁধা। এ সময় কয়েকজনের কথাবার্তাও শুনতে পায়। তবে কাউকে দেখতে পারেনি। হাত বাঁধা অবস্থাতেই সে শৌচাগারের দরজায় ধাক্কা দিয়ে শব্দ করার চেষ্টা করতে থাকে।

একপর্যায়ে বিদ্যালয়ের নতুন ভবনের নির্মাণকাজে নিয়োজিত শ্রমিকেরা ভেতর থেকে শব্দ ও গোঙানি শুনতে পান। পরে শৌচাগারের তালা ভেঙে ছাত্রীটিকে উদ্ধার করা হয়।

হামলাকারীদের চেহারা দেখতে না পেলেও তাদের কণ্ঠস্বর শুনলে শনাক্ত করতে পারবে বলে দাবি করেছে ওই ছাত্রী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় বিদ্যালয়ের ফলাফল আশানুরূপ হয়নি। অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও আগামী বছরের পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকদের নিয়ে আগামী সপ্তাহে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার একটি সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এ বিষয়ে অভিভাবকদের জানাতে শিক্ষকেরা বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। এ কারণে বৃহস্পতিবার টিফিনের পর বেলা দুইটার দিকে বিদ্যালয় ছুটি দেওয়া হয়েছিল।

তিনি জানান, ছুটির পরও বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলায় পিছিয়ে পড়া কয়েকজন শিক্ষার্থীকে একজন শিক্ষক আলাদাভাবে পড়াচ্ছিলেন। প্রধান শিক্ষক নিজেও বেলা তিনটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে ছিলেন। পরে পরিচ্ছন্নতাকর্মী ওয়াশব্লকের ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে সেখানে তালা লাগিয়ে বিষয়টি তাঁকে জানান। শিক্ষার্থীদের পড়ানো শিক্ষকও বিকেল চারটার দিকে বিদ্যালয়ের কলাপসিবল গেট বন্ধ করে চলে যান।

প্রধান শিক্ষক বলেন, বিদ্যালয়ে মোট নয়টি সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বারান্দার দুটি ক্যামেরা নষ্ট ছিল। ফলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কোনো দৃশ্য এখন পর্যন্ত সিসিটিভি ফুটেজ থেকে পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী ছাত্রী শারীরিকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও ঘটনার কারণে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত বলে জানান তিনি।

দিঘলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাওলাদার সানওয়ার হোসেন জানান, পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে ছাত্রীর বক্তব্য নিয়েছে এবং ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। হামলাকারীদের দেখতে না পাওয়ায় তাদের পরিচয় সম্পর্কে ছাত্রীটি সুনির্দিষ্ট তথ্য দিতে পারেনি। তবে ঘটনার বিভিন্ন দিক যাচাই করে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ছাত্রীর হাতে ছোট ছোট ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। সেগুলো কীভাবে হয়েছে, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ওসি আরও জানান, ছাত্রীর বাবা আগে একটি বেসরকারি সংস্থায় কর্মরত ছিলেন এবং আর্থিক বিষয় নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে তাঁর বিরোধ থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার সঙ্গে ওই বিরোধের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রাখা হয়েছে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছাত্রীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করা হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন