শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি রুমিন ফারহানাসহ ৬ সংসদ সদস্য

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেননি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাসহ ছয় সংসদ সদস্য। তাদের মধ্যে কয়েকজন বিদেশে চিকিৎসাধীন বা অবস্থান করায় ভোট দিতে পারেননি, আবার কেউ কেউ ভোটদানে বিরত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য ভোটার ছিলেন। তাদের মধ্যে ৩৪৩ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন এবং ছয়জন ভোট দেননি।

ভোট না দেওয়া সংসদ সদস্যরা হলেন—স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিএনপির মির্জা আব্বাস, মোস্তফা কামাল পাশা ও ওসমান ফারুক, খেলাফত মজলিসের আবুল হাসান এবং জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম।

বিদেশে থাকায় ভোট দিতে পারেননি কয়েকজন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির সংসদ সদস্য মির্জা আব্বাস ও মোস্তফা কামাল পাশা বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকায় ভোট দিতে পারেননি। বিএনপির আরেক সংসদ সদস্য ওসমান ফারুকও ভোট দিতে সংসদে উপস্থিত হননি।

খেলাফত মজলিসের সংসদ সদস্য আবুল হাসান বিদেশে অবস্থান করায় ভোট দিতে পারেননি বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব আহমদ আব্দুল কাদের।

অন্যদিকে জামায়াত থেকে বহিষ্কৃত সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামও ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি।

ভোট দেননি রুমিন, জানালেন কারণ

স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা সচেতনভাবেই ভোটদানে বিরত থাকার কথা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ফলাফল আগে থেকেই অনুমেয় ছিল বলে পুরো প্রক্রিয়াটি তার কাছে অর্থবহ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন মনে হয়নি।

রুমিনের মতে, নির্বাচনের ফল নিয়ে কোনো অনিশ্চয়তা না থাকলে সেই প্রক্রিয়ায় প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি প্রশ্নের মুখে পড়ে।

তিনি আরও বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষের আত্মত্যাগ ও প্রত্যাশাকে বিবেচনায় নিয়ে একজন অরাজনৈতিক এবং ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন দেওয়া যেতে পারত। তার মতে, এবারের প্রার্থী মনোনয়নে সেই জনআকাঙ্ক্ষার যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি।

৭০ অনুচ্ছেদ নিয়েও প্রশ্ন রুমিনের

ভোটদানে বিরত থাকার পেছনে সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের প্রসঙ্গও সামনে এনেছেন রুমিন ফারহানা।

তার অভিযোগ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিলে সংসদ সদস্য পদ হারানোর বিষয়টি বিএনপির পক্ষ থেকে সামনে আনা হয়েছিল। এ ধরনের পরিস্থিতিতে সংসদ সদস্যদের স্বাধীনভাবে পছন্দ প্রকাশের সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক দলের প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত সংসদ সদস্যের দলত্যাগ ও সংসদে দলের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে আসন শূন্য হওয়ার বিধান রয়েছে।

তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে ৭০ অনুচ্ছেদের প্রয়োগ ও ব্যাখ্যা নিয়ে আইনগত আলোচনা রয়েছে। ফলে এ বিষয়ে রুমিন ফারহানার বক্তব্যকে তার রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক মূল্যায়ন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ইসলামী আন্দোলন প্রথমে বিরত থাকার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত ভোট

ভোটগ্রহণ চলাকালে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, দলটির একমাত্র সংসদ সদস্য মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোটদানে বিরত থাকবেন।

দলটির মহাসচিব গাজী আতাউর রহমান জানিয়েছিলেন, জুলাই সনদে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে হওয়া ঐকমত্যের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার অভিযোগে দলটি ভোট না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে শেষ পর্যন্ত মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহ ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ফলে তিনি ভোট না দেওয়া ছয় সংসদ সদস্যের তালিকায় নেই।

২৫৫ ভোটে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

বর্তমান সংসদে বিএনপির আসলাম চৌধুরীর সংসদ সদস্য পদ আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ার পর সংরক্ষিত নারী আসনসহ রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট ভোটার ছিলেন ৩৪৯ জন।

ভোট গণনা শেষে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।

দুই প্রার্থীর মোট ভোট ৩৪৩। অর্থাৎ ভোট দেওয়া ৩৪৩ সংসদ সদস্যের সব ভোটই বৈধ হয়েছে। বাকি ছয় সংসদ সদস্য ভোটাধিকার প্রয়োগ করেননি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন