বুধবার, ১৯ আগস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ–কাতার সম্পর্ক আরও জোরদারে দোহায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বৈঠক

দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা; পারস্পরিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের উপায় অনুসন্ধান

কাতারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে আলোচনা করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। কাতার সফরকালে দোহায় দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ড. মোহাম্মদ বিন আবদুলআজিজ আল-খুলাইফির সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও কাতারের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। একই সঙ্গে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও গভীর করা এবং সহযোগিতার ক্ষেত্র সম্প্রসারণের সম্ভাব্য উপায় নিয়ে মতবিনিময় করেন দুই পক্ষ।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির উপস্থিত ছিলেন।

দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্ব

বাংলাদেশ ও কাতারের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে। দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে সেই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থের বিষয়গুলো সামনে রেখে ভবিষ্যতে সহযোগিতা কীভাবে আরও কার্যকর ও বিস্তৃত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।

বিশেষ করে বিদ্যমান কূটনৈতিক যোগাযোগকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় হয়। উভয় পক্ষ বাংলাদেশ–কাতার সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার উপায় অনুসন্ধানের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে।

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার কাতার

মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদারদের অন্যতম কাতার। দেশটিতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক বাংলাদেশি নাগরিক কর্মরত রয়েছেন। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শ্রমবাজার ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বার্থের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ঢাকা ও দোহার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের কাতার সফর এবং দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠককে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সহযোগিতার পরিধি সম্প্রসারণের সুযোগ

বাংলাদেশের জন্য কাতার যেমন জ্বালানি ও শ্রমবাজারের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি কাতারের বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাড়ানোরও সুযোগ রয়েছে। অবকাঠামো, জ্বালানি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা রয়েছে।

দোহায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে নির্দিষ্ট কোনো নতুন চুক্তি বা সমঝোতার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উপায় অনুসন্ধানের মধ্য দিয়ে ভবিষ্যৎ সহযোগিতা সম্প্রসারণে উভয় পক্ষের আগ্রহের বিষয়টি উঠে এসেছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই সফর এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন বাংলাদেশ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। কাতারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের এ ধরনের যোগাযোগ দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও বহুমুখী করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন