শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

মালয়েশিয়াকে হারিয়ে প্রথমবার আন্তর্জাতিক বেসবলের ফাইনালে বাংলাদেশ আনসার-ভিডিপি নারী দল

মালয়েশিয়ার মাটিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি নারী বেসবল দল। স্বাগতিক মালয়েশিয়ার জাতীয় নারী বেসবল দলকে ১০–৯ ব্যবধানে হারিয়ে ‘মালয়েশিয়া আন্তর্জাতিক মহিলা বেসবল চ্যাম্পিয়নশিপ–২০২৬’-এর ফাইনালে উঠে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) মালয়েশিয়ার সেলানগর এলাকায় অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের তৃতীয় ম্যাচে স্বাগতিকদের বিপক্ষে এক রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ের পর জয় পায় বাংলাদেশ। এ জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক কোনো বেসবল টুর্নামেন্টে প্রথমবারের মতো ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করল আনসার-ভিডিপি নারী দল।

এর আগে টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার ‘গ্রিন অর্কা বেসবল’ দলকে ২৬–০ ব্যবধানে হারিয়ে আন্তর্জাতিক আসরে নিজেদের প্রথম জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। ১৩ আগস্টের ওই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয়টি ছিল দলটির জন্য আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর বড় উপলক্ষ। বাংলাদেশের ওই জয়টি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) প্রতিবেদনেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

স্বাগতিকদের বিপক্ষে নাটকীয় জয়

মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য ছিল টুর্নামেন্টের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। একদিকে স্বাগতিক দলের শক্তিশালী প্রতিপক্ষ, অন্যদিকে ফাইনালে ওঠার লড়াই—সব মিলিয়ে ম্যাচটিতে শুরু থেকেই ছিল বাড়তি উত্তেজনা।

শেষ পর্যন্ত ১০–৯ ব্যবধানে মালয়েশিয়াকে পরাজিত করে বাংলাদেশ। মাত্র এক রানের ব্যবধানে পাওয়া এ জয় দলের লড়াকু মানসিকতা ও গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে।

টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক মালয়েশিয়ার কাছে হারের পরও বাংলাদেশ দল ঘুরে দাঁড়ায়। পরের ম্যাচে ইন্দোনেশিয়াকে ২৬–০ ব্যবধানে হারানোর পর তৃতীয় ম্যাচে মালয়েশিয়ার জাতীয় দলকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক জয় তুলে নেয় তারা। ফলে শুরুতে হারের ধাক্কা সামলে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ।

আনসার-ভিডিপির নারী বেসবলে নতুন অধ্যায়

বাংলাদেশে ক্রিকেট, ফুটবল, হকি কিংবা কাবাডির তুলনায় বেসবল এখনো অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত একটি খেলা। এমন প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের নারী বেসবল দলের ফাইনালে ওঠার ঘটনা দেশের নারী ক্রীড়াঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার বার্তা দিচ্ছে।

আনসার-ভিডিপি নারী দলের এই সাফল্য বেসবলের মতো তুলনামূলকভাবে কম জনপ্রিয় খেলায় মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়াতেও অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে। আন্তর্জাতিক মঞ্চে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশি নারী খেলোয়াড়রা যে নতুন খেলাতেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারেন, এই সাফল্য তারই উদাহরণ হয়ে থাকল।

মহাপরিচালকের অনুপ্রেরণা

টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার আগে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ দলটির খেলোয়াড়দের দেশপ্রেম, আত্মবিশ্বাস ও লড়াকু মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

মালয়েশিয়ার মাটিতে টানা দুই ম্যাচে জয় এবং ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার মাধ্যমে খেলোয়াড়রা সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন।

সামনে ফাইনাল

টুর্নামেন্টে এখন বাংলাদেশের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ফাইনাল। আগামী ১৬ আগস্ট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ।

মালয়েশিয়াকে ১০–৯ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার পর আনসার-ভিডিপি নারী বেসবল দলের আত্মবিশ্বাস এখন নিঃসন্দেহে বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে ২৬–০ এবং মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ১০–৯—পরপর দুই জয়ে দলটি নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে।

বাংলাদেশের নারী বেসবলের ইতিহাসে তাই ১৪ আগস্টের এই জয় শুধু আরেকটি ম্যাচের ফল নয়; এটি আন্তর্জাতিক বেসবলে দেশের নারী দলের প্রথম ফাইনাল নিশ্চিত করার একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।

এখন অপেক্ষা ১৬ আগস্টের ফাইনালের। শিরোপার লড়াইয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা কতটা সফল হন, সেটিই দেখার বিষয়। তবে এরই মধ্যে মালয়েশিয়ার মাটিতে তাদের এই সাফল্য দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন