সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

নবম মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক, মুক্তিতে বাধা নেই

গণ-অভ্যুত্থানকালে হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রাজধানীর বনানী থানায় করা মামলায় অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। এ জামিনের ফলে তাঁর কারামুক্তিতে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।

সোমবার (১০ আগস্ট) জামিন আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি কে এম জাহিদ সারওয়ার ও বিচারপতি শেখ আবু তাহেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন।

খায়রুল হকের অন্যতম আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানান, রুল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ওই মামলায় তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেওয়া হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মোট নয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে আটটি মামলায় তিনি জামিনে আছেন। বনানী থানার মামলায়ও জামিন পাওয়ায় তাঁর কারামুক্তিতে এখন আর আইনগত বাধা নেই।

এর আগে গত ২৭ জুলাই বনানী থানার মামলায় অধস্তন আদালতে জামিন চেয়ে ব্যর্থ হন খায়রুল হক। পরে রোববার (৯ আগস্ট) তিনি হাইকোর্টে জামিন আবেদন করেন। সোমবার আবেদনটি শুনানির জন্য আদালতের কার্যতালিকায় ছিল।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. মনসুরুল হক চৌধুরী, মোতাহার হোসেন সাজু ও আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীনসহ অন্যরা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দা সাজিয়া শারমিন।

আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানান, হাইকোর্টের রুলে ওই মামলায় খায়রুল হককে কেন নিয়মিত জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে।

মামলার অভিযোগ

বনানী থানার মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট রাজধানীর মহাখালীতে সেতু ভবনের সামনে আন্দোলনকারীরা অবস্থান করছিলেন। সেখান থেকে শাহবাগের দিকে যাওয়ার পথে তাঁদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে উজ্জ্বল মিয়াসহ ২৫ থেকে ৩০ জন আহত হন। পরে উজ্জ্বল মিয়া বনানী থানায় হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন।

গ্রেপ্তারের পর একের পর এক মামলা

খায়রুল হককে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এরপর বিভিন্ন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পৃথক আট মামলায় জামিন পাওয়ার পর বনানী থানার মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য গত ২ জুলাই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে আবেদন করেন। ওই মামলায় ৮ জুলাই তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

খায়রুল হকের আইনজীবীদের তথ্যমতে, পৃথক মামলায় জামিন পাওয়ার পর নতুন মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়ে তাঁর ছেলে আইনজীবী আশিক উল হক গত ১৩ মে হাইকোর্টে রিট করেন।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে ১৭ মে হাইকোর্ট রুলসহ অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ দেন। ওই আদেশে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখাতে এবং হয়রানি না করতে নির্দেশ দেওয়া হয়।

হাইকোর্টের ওই আদেশ স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। গতকাল রোববার আপিল বিভাগ আবেদনটি নিষ্পত্তি করে হাইকোর্টের রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের মতে, এর ফলে সুনির্দিষ্ট মামলা ছাড়া খায়রুল হককে গ্রেপ্তার না দেখানো ও হয়রানি না করার বিষয়ে হাইকোর্টের আদেশ তাঁর ক্ষেত্রে বহাল রয়েছে।

সাবেক প্রধান বিচারপতি

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

তাঁর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন