অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের হামলায় রাশিয়ার সহায়তার অভিযোগ, তদন্তে যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের মধ্যে ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে ইউক্রেন যুদ্ধ আলোচনার প্রধান বিষয় হলেও, এর আড়ালে ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আন্তর্জাতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও গোয়েন্দা স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলার পেছনে রাশিয়ার গোয়েন্দা বা প্রযুক্তিগত সহায়তা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর স্থাপনায় পরিচালিত ড্রোন হামলার ধরন ও লক্ষ্যবস্তুর নির্ভুলতা তদন্তকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এ কারণে হামলার পেছনে রাশিয়ার কোনো ধরনের সহায়তা ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র বা রাশিয়ার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রমাণ প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের একটি অংশের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মস্কো ও তেহরানের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পর দুই দেশের সহযোগিতা আরও গভীর হয়। ইরান রাশিয়াকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে সহায়তা দেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশ দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্ব চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, রাশিয়ার উন্নত স্যাটেলাইট ও নজরদারি সক্ষমতা ইরানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। যদিও ইরানের নিজস্ব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কও মধ্যপ্রাচ্যে সক্রিয় রয়েছে এবং লক্ষ্য নির্বাচনেও তাদের সক্ষমতা রয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে অতীতে ইরানের সঙ্গে সামরিক জোট বা সরাসরি সামরিক সহায়তার অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। একইভাবে ইরানি ড্রোনে রুশ প্রযুক্তি ব্যবহারের অভিযোগও মস্কো প্রত্যাখ্যান করেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ওয়াশিংটনের মনোযোগ ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আংশিকভাবে সরে যেতে পারে, যা রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় রাশিয়ার সরাসরি সম্পৃক্ততার বিষয়ে কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা চূড়ান্ত প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।

এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সীমান্ত ও উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাতের বিস্তার নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাই বর্তমান সংঘাতের প্রধান চালিকাশক্তি, যদিও সম্ভাব্য বৈদেশিক প্রযুক্তিগত সহায়তা তাদের সক্ষমতাকে আরও কার্যকর করে তুলতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন